Wednesday, March 20, 2024

সু চির বাড়ি নিলামে উঠল, কিনতে এল না কেউ


 

কারাগারে থাকা মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির বাড়ি আজ বুধবার নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাড়িটি কেনার ব্যাপারে কেউ আগ্রহ দেখাননি।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নিলামে সু চির বাড়ির প্রারম্ভিক দাম ধরা হয়েছিল ৯ কোটি ডলার। কিন্তু কেউ নিলামের প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি।

ইয়াঙ্গুনের ইনয়ে হ্রদের পাশে সু চির পারিবারিক এ বাড়িটি প্রায় ১ দশমিক ৯২ একর জমির ওপর।

বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বড় ভাই অং সান ও–এর সঙ্গে সু চির বিরোধ ছিল। চলছিল আইনি লড়াই।

বহু বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মিয়ানমারের সুপ্রিম কোর্ট বাড়িটি নিলামে তোলার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা মেনে আজ সু চির পারিবারিক বাড়ি নিলামে ওঠে।


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান নোবেলজয়ী সু চি। এর পর থেকে কারাগারে আছেন তিনি। সু চির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। কয়েকটি মামলায় সাজাও পেয়েছেন।

নিলামের প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি বিষয়টির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, আজকের নিলামে কেউ বাড়িটি কিনতে আসেননি। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চলে গেছেন।

বিবিসি বার্মিজের পক্ষ থেকেও এ খবর জানানো হয়েছে।

নিলামে বাড়িটি বিক্রি না হওয়ার প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে অং সান ও-এর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু সাড়া মিলেনি।

সু চির বাবা জেনারেল অং সান ছিলেন মিয়ানমারের স্বাধীনতার নায়ক। ১৯৪৭ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়। এরপর সু চির মা খিন খিয়ি-এর তত্ত্বাবধানে ছিল বাড়িটি।


পারিবারিক বাড়ির ভাগ চেয়ে ২০০০ সালে মামলা করেন অং সান ও। ২০২৬ সালে ওই মামলার রায় হয়। আদালত পুরো সম্পত্তি ভাই-বোনদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেন।

আদালতে এমন নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন অং সান ও। অভ্যুত্থানের পর সর্বোচ্চ আদালত তাঁর বিশেষ আপিলের পক্ষে রায় দেন। বাড়িটি নিলামে বিক্রি করতে বলেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হলো না।


জিম্মি জাহাজ থেকে মালিকপক্ষকে ফোন দিল সোমালিয়ার জলদস্যুরা

‘গোল্ডেন হক’ নামের জাহাজটি বাংলাদেশের কেএসআরএম গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়ার পর এর নাম হয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’। ২৩ নাবিক, ক্রুসহ জাহাজটি জিম্মি করেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরাছবি: সংগৃহীত

২৩ জন নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ জিম্মি করার ৯ দিনের মাথায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। জলদস্যুরা আজ বুধবার যোগাযোগ করে বলে জাহাজের মালিকপক্ষ প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জলদস্যুরা যোগাযোগ (ফোন) শুরু করেছে। এখন আলোচনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, যোগাযোগ শুরু হওয়ায় এখন জলদস্যুরা মুক্তিপণ দাবি করতে পারে। দর-কষাকষি করে সমঝোতায় পৌঁছালে জাহাজসহ নাবিকদের মুক্তি মিলতে পারে।

অবশ্য জলদস্যুদের যোগাযোগের আগেই মালিকপক্ষ সমঝোতার নানা প্রক্রিয়ার কাজ গুছিয়ে এনেছিল বলে সূত্র জানায়।

১২ মার্চ সোমালিয়া উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে জলদস্যুরা।

তিন দিনের মাথায় নাবিকসহ জিম্মি জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দফা স্থান পরিবর্তন করে জাহাজটি গত শুক্রবার সোমালিয়ার গদভজিরান উপকূলের কাছে নোঙর করে রাখে জলদস্যুরা।


 

Monday, March 18, 2024

জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে যা বলল মালিকপক্ষ

 

 

 


 

সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর এই ছবি প্রকাশ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীছবি: ভারতীয় নৌবাহিনীর এক্স পোস্ট থেকে নেওয়া

সোমালিয়ার উপকূলে জিম্মি ২৩ নাবিকসহ বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে উদ্ধার করতে দেশটির পুলিশ ও বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমালিয়ার আধা স্বায়ত্তশাসিত পান্টল্যান্ড অঞ্চলের পুলিশের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ সোমবার এ খবর প্রকাশ করেছে। তবে জাহাজটির মালিকপক্ষ বলেছে, এ ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।

১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে বাংলাদেশি জাহাজটি ছিনতাই করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটি এখন সোমালিয়ার গদভজিরান উপকূলের কাছে নোঙর করা আছে। জাহাজটিতে জলদস্যুরা ওঠার পরপরই একটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি দূরপাল্লার টহল জাহাজ মোতায়েন করেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। বাংলাদেশি জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নেওয়া পর্যন্ত সেটির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়ে অনুসরণ করেছিল ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে শনিবার ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে মাল্টার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি রুয়েন উদ্ধার করেন।


এর দুই দিনের মাথায় আজ পান্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, এমভি আবদুল্লাহকে দখল করে রাখা জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক নৌ সেনারা জলদস্যুদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করছেন বলে খবর পাওয়ার পর পান্টল্যান্ড পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে কিছু বলেনি ভারতীয় নৌবাহিনী।

তবে জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। এ ধরনের অভিযানের বিষয়ে আগেও সরকার থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নৌবাহিনীর কাছে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।’


এর আগে ১৪ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনী এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ সরকার তাতে সম্মতি দেয়নি বলে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব খুরশেদ আলম একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আলোচনায় জানান। সেখানে তিনি বলেন, নাবিকদের জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওই প্রস্তাবে সরকার ও মালিকপক্ষ রাজি হয়নি।



যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী

 

Sunday, March 17, 2024

পুরুষ ও নারীর শার্টে বোতাম কেন ভিন্ন পাশে থাকে

 পুরুষের শার্টে বোতাম থাকে ডানে, নারীর শার্টে বাঁয়ে। এই ধারা প্রাচীনকালের। কিন্তু ঠিক কী কারণে নারী–পুরুষের শার্টের বোতামের অবস্থান আলাদা? কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন ফ্যাশন ইতিহাসবিদেরা


পুরুষের শার্টে বোতাম থাকে ডানে, নারীর শার্টে বাঁয়ে, এই ধারা প্রাচীনকালেরমডেল: নিরব ও নীলা:

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, বোতামের উদ্ভব ১৩ শতকে। ১৪ শতক থেকে বোতাম হয়ে ওঠে সামাজিক অবস্থানের পরিচয়বাহক অলংকার। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আওয়ার ভিশনের অন্যতম ডিজাইনার নাটালি হিকস বলেন, শুরুর দিকে সাজ ও নকশার উপাদান হিসেবে বোতাম শুধু সম্পদশালী নারীরাই ব্যবহার করতেন।

এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, বোতামের উদ্ভব ১৩ শতকে
এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার মতে, বোতামের উদ্ভব ১৩ শতকে
ছবি: পেক্সেলস

তবে ঠিক কী কারণে নারী ও পুরুষদের শার্টের ভিন্ন দুই পাশে বোতাম বসানো হলো, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড টেপার্ড মেন্সওয়্যারের সিইও স্কট লিবেনবার্গ একটি তত্ত্ব দাঁড় করেছেন। সেই তত্ত্বে তিনি বলেন, ‘আগেকার দিনে ধনীদের জন্য পরিধেয় পোশাক ছিল একটা বড় বিষয়। ধনী নারীদের পোশাক পরিয়ে দেওয়ার জন্য একজন সহকারী থাকত। তাই নারীদের পোশাকের বোতাম বাঁ পাশে বসানো থাকলে ডানহাতি সহকারীর জন্য তা পরিয়ে দেওয়া বেশ সুবিধাজনক হতো। অন্যদিকে পুরুষেরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিজেরাই নিজেদের পোশাক পরতেন। তাই সুবিধা বিবেচনায় পুরুষদের শার্টে বোতাম লাগানো হতো ডান পাশে।’

ডিজাইনার নাটালি হিকসও লিবেনবার্গের এই তত্ত্ব সমর্থন করেছেন।

এই ধারা বদলায়নি কেন

এর উত্তরে হিকস বলেন, ‘১৯ শতকে এসে সেলাই–প্রযুক্তির অগ্রগতি হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের পোশাকেও বোতামের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। সেই পুরোনো দিন থেকে যা প্রচলিত ছিল, তা কেউ আর সংশোধন করার প্রয়োজন বোধ করেনি। বরং এই ভিন্নতাকে অবলম্বন করে নতুন নতুন ফ্যাশন চালু হয়েছে।’

১৯ শতকে এসে সেলাই–প্রযুক্তির অগ্রগতি হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের পোশাকেও বোতামের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে
১৯ শতকে এসে সেলাই–প্রযুক্তির অগ্রগতি হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের পোশাকেও বোতামের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে
ছবি: পেক্সেলস

হিকসের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন লিবেনবার্গও। তিনি বলেন, ‘এই ধারা কেন বদলায়নি, তার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে ঐতিহ্য ধরে রাখা এর একটি কারণ হতে পারে। একবার একটি স্টাইল চালু হয়ে গেলে তা দিনের পর দিন ধরে চলতেই থাকে। কালক্রমে স্টাইল বিকশিত হলেও সাধারণ কিছু বিষয় একই রকম থেকে যায়।’

পোশাক কারখানার সুবিধাকেও একটি কারণ হিসেবে মানেন লিবেনবার্গ। তিনি বলেন, ‘দুটি ভিন্ন পাশে বোতাম বসানো পোশাক অ্যাসেমব্লি লাইনে এলে বোঝা সহজ হয় কোনটি পুরুষদের জন্য আর কোনটি নারীদের জন্য তৈরি। এতে কারখানায় কাজটা সহজ হয়ে যায়।’

পুরোনো দিন থেকে যা প্রচলিত ছিল, তা কেউ আর সংশোধন করার প্রয়োজন বোধ করেনি
পুরোনো দিন থেকে যা প্রচলিত ছিল, তা কেউ আর সংশোধন করার প্রয়োজন বোধ করেনি
ছবি: পেক্সেলস

হিকস বলেন, বেশির ভাগ লোকই কিন্তু জানে না যে লিঙ্গভেদে বোতাম দুই পাশে বসানো হয়। অর্থাৎ অনেকেই একে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।

Thursday, March 14, 2024

জিম্মি জাহাজ এখন সোমালিয়ার উপকূলে

 

‘গোল্ডেন হক’ নামের জাহাজটি বাংলাদেশের কেএসআরএম গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়ার পর এর নাম হয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’। ২৩ নাবিক, ক্রুসহ জাহাজটি জিম্মি করেছে সোমালিয়ার জলদস্যুরাছবি: সংগৃহীত

ভারত মহাসাগরে ২৩ নাবিকসহ জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ সোমালিয়ার উপকূলের কাছে নিয়ে গেছে দস্যুরা। আজ বৃহস্পতিবার বেলা একটা নাগাদ জাহাজটি গ্যারাকাদ নোঙর এলাকা থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে দস্যুরা নোঙর করে রেখেছে।  

লন্ডন ও কুয়ালালামপুরভিত্তিক জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরো (আইএমবি) থেকে তথ্য নিয়ে জাহাজটির এই অবস্থানের তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজটি গ্যারাকাদ থেকে দুই ঘণ্টার দূরত্বে ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দস্যুদের কেউ মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।


জাহাজটির মালিকপক্ষের একজন প্রতিনিধিও জাহাজটি নোঙর করে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রথম আলোর কাছে।  

সমুদ্রগামী জাহাজের অবস্থান পর্যবেক্ষণকারী ‘শিপফিক্স’–এর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, জাহাজটি সাড়ে ১০ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলেছে। সোমালিয়ার উপকূলের কাছে অবস্থান করছে জাহাজটি।


মোজাম্বিক থেকে ৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, জিম্মি করার সময় জাহাজটির অবস্থান ছিল সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ভারত মহাসাগরে।

জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন। তিন মাস আগে গ্রুপের বহরে যুক্ত হয়েছিল জাহাজটি।

আরও পড়ুন

Tuesday, March 12, 2024

সুরা নমলে হজরত সোলায়মান (আ.) ও রানি বিলকিসের ঘটনা

 


পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বিলকিস নামে ইয়েমেনের এক নারীর গল্প বলেছেন। বিলকিস হজরত সোলায়মান (আ.)-এর যুগে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সম্রাজ্ঞী ছিলেন। সোলায়মান (আ.) বিলকিসের সাম্রাজ্যের কথা জানতেন না। তিনি তাঁর গোয়েন্দা পাখি হুদহুদের মাধ্যমে জানতে পারেন, কারো আনুগত্য স্বীকার না করেই বিলকিস বিস্তীর্ণ একটি অঞ্চল শাসন করছেন। তিনি তাঁকে আত্মসমর্পণের আহ্বান করলেন। কোরআনের সুরা নমলের ২৪টি আয়াতে আল্লাহ ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। কোরআনের ভাষ্যে ঘটনাটি বর্ণনা করা যাক।

কোরআনে আছে, সে (হুদহুদ) দেরি না করে এসে পড়ল এবং বলল, ‘আমি এমন সব তথ্য  লাভ করেছি, যা আপনার জানা নেই আর সাবা থেকে সঠিক খবর নিয়ে এসেছি। আমি এক নারীকে দেখলাম সে জাতির ওপর রাজত্ব করছে। তাকে সবই দেওয়া হয়েছে ও তার আছে এক বিরাট সিংহাসন। আমি তাকে ও তার সম্প্রদায়কে দেখলাম, তারা আল্লাহর পরিবর্তে সূর্যকে সিজদা করছে। শয়তান ওদের কাছে ওদের কাজকর্ম শোভন করেছে ও ওদের সৎ পথ থেকে দূরে রেখেছে যেন ওরা সৎ পথ না পায় এবং যিনি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন বিষয়কে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা তোমরা প্রকাশ কর, সেই আল্লাহকে যেন ওরা সিজদা না করে।

আরও পড়ুন

আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনিই মহা আরশের অধিপতি।’ (সোলায়মান) বলল, ‘আমি দেখব, তুমি সত্য বলছ না মিথ্যা বলছ? তুমি আমার এ চিঠি নিয়ে যাও। এ তাদের কাছে দিয়ে এসো। তারপর তাদের কাছ থেকে সরে পড়ো ও দেখো তারা কী উত্তর দেয়।’ (সাবা রানি বিলকিস) বলল, ‘পারিষদবর্গ! আমাকে এক সম্মানিত পত্র দেওয়া হয়েছে। এ সোলায়মানের কাছ থেকে। আর তা এই: করুণাময়, পরম দয়াময় আল্লাহর নামে।

অহংকার করে আমাকে অমান্য করো না, আনুগত্য স্বীকার করে আমার কাছে উপস্থিত হও।’ (বিলকিস) বলল, ‘পারিষদবর্গ! আমার এ সমস্যায় তোমাদের পরামর্শ দাও, আমি যা করি তা তো তোমাদের উপস্থিতিতেই করি।’ ওরা বলল, ‘আমরা তো শক্তিশালী ও কঠোর যোদ্ধা; তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আপনার, কী নির্দেশ দেবেন, তা আপনিই দেখুন।’ (বিলকিস) বলল, ‘রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় ও সেখানকার মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অপদস্থ করে; এরাও তা-ই করবে। আমি তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি। দেখি, দূতেরা কী উত্তর আনে।’

দূত সোলায়মানের কাছে এলে সোলায়মান বলল, ‘তোমরা কি আমাকে ধনসম্পদ দিয়ে সাহায্য করতে চাও? আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তার চেয়ে উত্তম জিনিস দিয়েছেন আমাকে, অথচ তোমরা তোমাদের উপঢৌকন নিয়ে উৎফুল্ল বোধ করছ।... তোমরা ওদের কাছে ফিরে যাও, আমি অবশ্যই ওদের বিরুদ্ধে এমন এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে উপস্থিত হব, যা রুখবার শক্তি ওদের নেই। আমি ওদেরকে সেখান থেকে অপমান করে বের করে দেব ও ওদেরকে দলিত করব।’


সোলায়মান আরও বলল, ‘হে আমার পারিষদবর্গ। তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করতে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’ এক শক্তিশালী জিন বলল, ‘আপনি আপনার স্থান থেকে ওঠার আগেই আমি তা এনে দেব। এ ব্যাপারে আমি এমন শক্তি রাখি। আর আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।’ কিতাবের জ্ঞান যার ছিল সে বলল, ‘আপনি চোখের পলক ফেলার আগেই আমি তা এনে দেব। সোলায়মান যখন তা সামনে রাখা দেখল, তখন বলল, এ আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ, যাতে তিনি আমাকে পরীক্ষা করতে পারেন, আমি কৃতজ্ঞ না অকৃতজ্ঞ। যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সে তা নিজের জন্য করে, আর যে অকৃতজ্ঞ সে জেনে রাখুক যে আমার প্রতিপালকের অভাব নেই, তিনি মহানুভব।’ সোলায়মান বলল, ‘তার সিংহাসনের আকৃতি বদলে দাও; দেখি সে ঠিক ধরতে পারে, নাকি ভুল করে।’ বিলকিস যখন পৌঁছাল, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘তোমার সিংহাসন কি এ রকম?’ সে বলল, ‘এ তো এ রকমই। আমরা আগেই সবকিছু জেনেছি ও আত্মসমর্পণও করেছি।’ আল্লাহর পরিবর্তে সে যার পূজা করত, তা-ই তাকে সত্য থেকে সরিয়ে রেখেছিল, সে (বিলকিস) ছিল অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের একজন। তাকে বলা হলো, ‘এই প্রাসাদে প্রবেশ করো।’ যখন সে ওটার দিকে তাকাল, তখন তার মনে হলো এ এক স্বচ্ছ জলাশয় এবং সে তার কাপড় হাঁটু পর্যন্ত টেনে তুলল। সোলায়মান বলল, ‘এ তো স্বচ্ছ স্ফটিকের প্রাসাদ।’ (বিলকিস) বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক। আমি তো নিজের ওপর জুলুম করেছিলাম। আমি সোলায়মানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কাছে আত্মসমর্পণ করছি।’ (সুরা নমল, আয়াত: ২২-৪৪)



নিজের সিংহাসন সোলায়মান (আ.)-এর দরবারে দেখে বিলকিস অবাক হবেন এবং ক্ষমতা দেখে তাঁকে নবী হিসেবে মেনে নিয়ে আনুগত্য করবেন। তাই তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য সোলায়মান (আ.) কিছু নির্দেশনা দিলেন। বললেন, তাঁর সিংহাসনের ধরন পাল্টে দাও। এরপর দেখি, সে সত্য পথের দিশা পায়, নাকি যারা পথের দিশা পায় না তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

রানি বিলকিস আত্মসমর্পণের জন্যই এলেন। তাঁকে সিংহাসনটি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘এটা কি আপনার সিংহাসন?’ তিনি বললেন, ‘তাই তো মনে হয়। আমরা আত্মসমর্পণ করতেই এসেছি।’ রানি বিলকিসকে প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানিয়ে সোলায়মান (আ.) বললেন, ‘প্রাসাদে প্রবেশ করুন।’

প্রাসাদের মেঝে দেখে তিনি ভাবলেন সেটি স্বচ্ছ পানির হ্রদ। বিভ্রান্ত হয়ে পানি থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি পায়ের গোছা থেকে কাপড় উঁচু করেন।

সোলায়মান (আ.) বললেন, ‘এটা স্বচ্ছ কাচের প্রাসাদ।’

রানি বিলকিস এসব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়ে সোলায়মান (আ.)-এর অলৌকিক ক্ষমতা উপলব্ধি করলেন। তিনি আত্মসমর্পণ করলেন। বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমি অবশ্যই নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আমি সোলায়মানের সঙ্গে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করছি।’


জলদস্যুরা জাহাজে উঠে সবাইকে এক জায়গায় করার পর ফাঁকা গুলি ছোড়ে


ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ খান অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। মালিকপক্ষের কাছে পাঠানো ওই অডিও বার্তা প্রথম আলোর হাতে এসেছে। এতে উঠে এসেছে, দস্যুরা কীভাবে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থা কেমন, তা-ও উঠে এসেছে সেখানে।

মোজাম্বিকের মাপুতু বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টায় জাহাজটিতে উঠে নিয়ন্ত্রণ নেয় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। জাহাজটিতে ৫৫ হাজার টন কয়লা রয়েছে। জাহাজে থাকা ২৩ নাবিকের সবাই বাংলাদেশি। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।

‘গোল্ডেন হক’ নামের জাহাজটি বাংলাদেশের কেএসআরএম গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়ার পর এর নাম হয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’। জাহাজের ২৩ নাবিক সুস্থ আছেন বলে কেএসআরএম গ্রুপ জানিয়েছে
‘গোল্ডেন হক’ নামের জাহাজটি বাংলাদেশের কেএসআরএম গ্রুপের বহরে যুক্ত হওয়ার পর এর নাম হয় ‘এমভি আবদুল্লাহ’। জাহাজের ২৩ নাবিক সুস্থ আছেন বলে কেএসআরএম গ্রুপ জানিয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম আলোর হাতে আসা অডিও বার্তায় জাহাজটির প্রধান কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ খান বলেন, ‘জাহাজে তখন সকাল সাড়ে ১০টা। গ্রিনিচ মান সময় ৭টা ৩০ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বেলা দেড়টা)। এই সময় একটা হাই স্পিডবোট আমাদের দিকে আসতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে আল্যার্ম দিই। আমরা সবাই ব্রিজে গেলাম। ক্যাপ্টেন স্যার আর জাহাজের দ্বিতীয় কর্মকর্তা ব্রিজে ছিলেন তখন। আমরা এসওএস (জীবন বাঁচানোর জরুরি বার্তা) করলাম। ইউকে এমটিওতে (যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন) যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তারা ফোন রিসিভ করেনি। এরপর ওরা (জলদস্যুরা) চলে এল।’

অডিও বার্তায় আতিক উল্লাহ খান বলেন, ‘তারা (জলদস্যুরা) ক্যাপ্টেন স্যার ও দ্বিতীয় কর্মকর্তাকে ঘিরে ফেলল। আমাদের ডাকল। আমরা সবাই এলাম। এ সময় কিছু গোলাগুলি করল। সবাই ভয় পেয়েছিলাম। সবাই ব্রিজে বসে ছিল। তবে কারও গায়ে হাত দেয়নি। এ সময় একটা স্পিডবোটে আরও কয়েকজন চলে এল। এভাবে ১৫-২০ জন এল জাহাজটিতে। কতক্ষণ পর একটি বড় ফিশিং ভেসেল (মাছ ধরার নৌযান) এল। ওটা ছিল ইরানের মালিকানাধীন মাছ ধরার জাহাজ, যেটিকে এক মাস আগে তারা জিম্মি করেছিল। মাছ ধরার জাহাজটি দিয়ে তারা সাগরে জাহাজ খুঁজতেছিল। এখন ওই মাছ ধরার জাহাজ ছেড়ে দেবে। তবে সেটির জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। এখন আমাদের থেকে ডিজেল নিচ্ছে। আমাদের জাহাজটি থামিয়েছে তারা। জাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আমাদেরও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’


অডিও বার্তায় আকুতি জানিয়ে জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমাদের পরিবারকে একটু দেখবেন। সান্ত্বনা জানাবেন।’

অডিও বার্তার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কবির গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অডিও বার্তা জাহাজের প্রধান কর্মকর্তার। তাঁরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। নাবিকদের সুরক্ষাই তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এর আগে জলদস্যুদের কবলে পড়া জাহান মনি জাহাজের নাবিকদেরও নিরাপদে দেশে এনেছেন। এ জাহাজের নাবিকদেরও নিরাপদে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তাঁরা।


বাংলাদেশি জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকে এমটিও) তাদের ওয়েবসাইট ও এক্সে (সাবেক টুইটারে) বার্তা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে এ ঘটনা ঘটেছে। দুটি নৌযানে (একটি বড় ও অপরটি ছোট) চড়ে জাহাজটির কাছাকাছি এসে জলদস্যুরা সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এর আগে জাহাজটির নাবিক আসিফুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। তাতে জলদস্যুরা জাহাজে উঠছে, এমন ভিডিও দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট্ট একটি নৌযান থেকে রশি বেয়ে প্রথমে একজন জলদস্যু জাহাজটিতে ওঠে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজটির নাবিকেরা জাহাজ পরিচালনাকক্ষ থেকে ভিডিও করছেন। এ সময় জাহাজটির এক নাবিককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার উঠে যাচ্ছে। ওই। ওই। সাথে গান আছে।’