Monday, July 1, 2024

জিপিএ বাদ দিয়ে বদলে যাচ্ছে এসএসসির মূল্যায়ন, বর্ণ দিয়ে ফল

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর অবশেষে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী কেন্দ্রভিত্তিক পাবলিক পরীক্ষার (এসএসসি) মূল্যায়ন–কাঠামো চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত অংশের ওয়েটেজ হবে ৬৫ শতাংশ এবং কার্যক্রমভিত্তিক অংশের ওয়েটেজ ৩৫ শতাংশ। একেকটি বিষয়ের মূল্যায়ন হবে সর্বোচ্চ এক স্কুল দিবস (দিনে যতক্ষণ স্কুল চলে)। আগের মতো জিপিএর ভিত্তিতে ফল প্রকাশ হবে না।

তবে ফলাফলের (রিপোর্ট কার্ড) বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য সাতটি স্কেলের ঘরে আলাদা ইংরেজি বর্ণ দিয়ে বোঝানো হবে। অবশ্য এই লেটার গ্রেড নম্বরের ভিত্তিতে হবে না।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, মূল্যায়ন–কাঠামো অনুমোদন দিতে গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মাধ্যমিক স্তর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা স্তরের যৌথ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা। শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের মূল্যায়ন কৌশলের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন কার্যপত্র লেখা হলে সে অনুযায়ী মূল্যায়ন–কাঠামোর বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এত দিন আলোচনা হয়েছিল, এই সাত স্কেলের ঘর ভরাট অনুযায়ী ফলাফল বোঝানো হবে। এখন সেটি না করে ইংরেজি বর্ণ দিয়ে সেটি বোঝানো হবে। তবে এই লেটার গ্রেড এখনকার মতো নম্বরেরে ভিত্তিতে হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, খসড়া মূল্যায়ন–কাঠামোয় একেকটি বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টায় পরীক্ষা নেওয়ার কথা আলোচনা হয়েছিল। তবে এনসিসিসির সভায় এ বিষয়ে আরও নমনীয় হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ এক স্কুল দিবসে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়।

নতুন কাঠামোর খসড়ায় বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীর নির্ধারিত পারদর্শিতা অনুযায়ী সাতটি স্কেল বা সূচকে ফল বা রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করা হবে। এই সাত স্কেলের নাম হবে অনন্য, অর্জনমুখী, অগ্রগামী, সক্রিয়, অনুসন্ধানী, বিকাশমান ও প্রারম্ভিক। যেমন সর্বোচ্চ স্কেল ‘অনন্য’ বলতে বোঝানো হবে শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পারদর্শিতার চূড়ান্ত স্তর অর্জন করেছে। প্রারম্ভিক স্তর বলতে পারদর্শিতার সবচেয়ে নিচের স্তরকে বোঝানো হবে। রিপোর্ট কার্ডে শিখনকালীন মূল্যায়ন ও পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়নের ফলাফল আলাদাভাবে প্রকাশিত হবে।

আরও পড়ুন

এত দিন আলোচনা হয়েছিল, এই সাত স্কেলের ঘর ভরাট অনুযায়ী ফলাফল বোঝানো হবে। এখন সেটি না করে ইংরেজি বর্ণ দিয়ে সেটি বোঝানো হবে। তবে এই লেটার গ্রেড এখনকার মতো নম্বরেরে ভিত্তিতে হবে না। পারদর্শিতার স্তর অনুযায়ী এই লেটার গ্রেড হবে। মূলত অভিভাবকসহ মানুষ যাতে সহজে ফলাফল বুঝতে পারে, সে জন্য এটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মূল্যায়নের বিষয়ে এনসিটিবি যে কৌশল ঠিক করেছিল, সেখানে কিছু সংশোধনী নিয়ে এনসিসিসির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন কার্যপত্র হলে সবাইকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী যদি এসএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়, তাহলে শর্ত সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে তাকে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পাস করতে হবে। আর তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হলে একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া যাবে না। কোনো বিষয়ে একের বেশি পারদর্শিতার ক্ষেত্রে ‘প্রারম্ভিক’ স্তরে থাকলে শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে উত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

লিখিতি ও কার্যক্রমভিত্তিক—এই দুই ভাগে মূল্যায়ন হলেও প্রশ্নের ধরন এখনকার মতো থাকছে না। কার্যক্রমভিত্তিক (অ্যাসাইনমেন্ট করা, উপস্থাপন, অনুসন্ধান, প্রদর্শন, সমস্যার সমাধান করা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি) বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে হবে লিখিত অংশের মূল্যায়ন।

বর্তমানে মূলত দশম শ্রেণিতে নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট) উত্তীর্ণ হলে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ হয়। কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমে নির্বাচনী পরীক্ষা হবে না। কোনো শিক্ষার্থী যদি দশম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ কর্মদিবস উপস্থিত না থাকে, তাহলে সে পাবলিক মূল্যায়ন বা এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে না।

নতুন নিয়মে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা। পদ্ধতিগত পরিবর্তন থাকলেও এখনকার মতো শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনেই এখনকার মতো কেন্দ্রভিত্তিতে হবে এই পরীক্ষা বা মূল্যায়ন।

মাদ্রাসা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত

মাদ্রাসায় যেহেতু এখনো নতুন শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত হয়নি, তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে দাখিল পরীক্ষা আগের নিয়মেই হবে। তবে বিশেষায়িত বিষয়গুলো বাদে বাকি বিষয়গুলোর মূল্যায়ন শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে। বর্তমানে যা নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হয়। এখন নবম শ্রেণির পাঠ্যসূচি মাদ্রাসা পর্যায়েই মূল্যায়ন করা হবে।

 

ধারাবাহিক মূল্যায়ন নিয়ে যে সিদ্ধান্ত

এই বৈঠকে বিদ্যালয় পর্যায়ের মূল্যায়ন–কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে ৩ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে অর্ধবার্ষিক (ষাণ্মাসিক) মূল্যায়ন। পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন–কাঠামোর খসড়ার সঙ্গে মিল রেখে হচ্ছে এই পরীক্ষা।

এনসিসিসির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই সামষ্টিক মূল্যায়ন পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়ন চূড়ান্ত হবে।

গত বছর প্রথম, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতেও চালু হয় এ শিক্ষাক্রম। ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম।

বর্তমানে যেসব শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে পড়ছে, তারাই প্রথমবারের মতো নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা দেবে। নতুন শিক্ষাক্রমে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। কিন্তু শিক্ষাবর্ষের ছয় মাস চলে গেলেও এটি চূড়ান্ত করতে না পারায় তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। এখন তা চূড়ান্ত হলো।

জানতে চাইলে এনসিটিবির চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান বলেন, মূল্যায়নের বিষয়ে এনসিটিবি যে কৌশল ঠিক করেছিল, সেখানে কিছু সংশোধনী নিয়ে এনসিসিসির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন কার্যপত্র হলে সবাইকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

 

Wednesday, June 26, 2024

দাদন আর ঋণের জালে যেভাবে আটকা পড়েছেন গৌর জলদাস


 গৌর জলদাসের ঘরের চালের ফুটো ঢাকতে দেওয়া হয়েছে প্লাস্টিক। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা উত্তর জেলে পাড়া এলাকায়প্রথম আলো।

দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে বসবাস গৌর জলদাসের (৪০)। ঘরের টিনের ছাউনি জং ধরে ফুটো হয়ে গেছে। সাগরে মাছ ধরে সংসারের খরচ মেটান গৌর জলদাস। মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখন অনেকটা বেকার তিনি। অভাবে-অনটনে দিন কাটছে তাঁর।

গৌর জলদাসের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের উত্তর জেলেপাড়ায়। গত মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, ‘হাতে টাকা নেই। দোকানে বাকি পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। এ ছাড়াও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে দাদনের জালে আটকে আছি। বড় ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। নিয়মিত পড়াশোনার খরচও দিতে পারি না।’

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় গৌর জলদাসের মতো অভাব-অনটনে দিন কাটছে সীতাকুণ্ডের প্রায় ৭ হাজার জেলে পরিবারের। গৌর জলদাসের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন সেখানে এলাকার প্রায় ৩০ জন জেলে উপস্থিত হন। সবাই তুলে ধরছিলেন নিজেদের দুর্দশার কথা।

গৌর জলদাস বলেন, বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ইলিশের মৌসুমে নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ২০টি জাল বসিয়ে মাছ ধরেন তিনি। নৌকা ও জাল মেরামত এবং চারজন শ্রমিকের বেতনের টাকা মৌসুমের শুরুতেই মহাজন থেকে ঋণ নিয়ে জোগাড় করতে হয়। মাছ ধরা যখন বন্ধ থাকে, তখন দাদন নেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সরকারি সহযোগিতার চাল পান না তিনি।

উত্তর জেলেপাড়া গ্রামের সরদার শ্যামবন্ধু জলদাস বলেন, গ্রামের সরদার তিনি। তাই অন্যদের মতো দিনমজুরি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না। জেলেদের কাছ থেকে মাছ কিনে পাইকারি ও খোলাবাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ সামাল দিয়ে আসছেন। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ব্যবসা বন্ধ। তিনি বলেন, ‘দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা আমি, এই দুর্দিনে কষ্টের কথা কাউকে মুখ ফুটে বলতেও পারি না।’

সুমঙ্গল জলদাস নামের পাড়ার আরেক জেলে বলেন, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তাঁর পাঁচজনের সংসার। মাছ ধরে সংসারের খরচ চালাতে কষ্ট হচ্ছিল। তাই গত বছর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছেলের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন মাঝেমধ্যে ওই ছেলে কাঠমিস্ত্রির জোগালির কাজ করে।

মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলে পাড়ার জেলেরা এখন কর্মহীন। ঘাটে বাধা রয়েছে সারি সারি নৌকা। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা খালে
মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকায় জেলে পাড়ার জেলেরা এখন কর্মহীন। ঘাটে বাধা রয়েছে সারি সারি নৌকা। গত মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরা খালে
প্রথম আলো

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে সরকারি তালিকাভুক্ত জেলে পরিবার রয়েছে ৫ হাজার ৪৪০টি। এর মধ্যে সহযোগিতা পায় ৪ হাজার ৮০৫টি পরিবার। বছরে মা ইলিশ নিধন বন্ধে ২২ দিন ও জাটকা নিধন বন্ধে ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এখন চলছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের কুমিরা খালে ইলিশ ধরার নৌকাগুলো সারবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। বেড়িবাঁধ এলাকায় অন্তত ১০টি স্থানে ছেঁড়া জাল মেরামতের কাজ করছেন ২০ জেলে। নৌকা মেরামত করতে দেখা যায় পাঁচ থেকে সাতজন ব্যক্তিকে।

উপজেলার সলিমপুর, ভাটিয়ারী ও সোনাইছড়ির মদনাহাট এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের জেলেপাড়াগুলো ঘুরে দেখা যায়, পাড়ার ভেতরে চায়ের দোকানে খোশগল্পে মেতে রয়েছেন জেলেরা। তাঁরা বলেন, পাড়ার অনেক যুবক জাহাজভাঙা কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করছেন। তবে প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। বেশির ভাগ জেলে সাগরে মাছ ধরা, মাছ বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানেন না। ফলে তাঁদের বেকার থাকতে হচ্ছে।

জেলেরা জানান, জাটকা নিধন বন্ধে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর তাঁরা ইলিশ ধরার জন্য সাগরে নামার অনুমতি পান। দুই মাস ইলিশ ধরার পর মা ইলিশের ডিম ছাড়ার জন্য আবার ২২ দিনের বন্ধ দেওয়া হয়। এরপর ১৫-২০ দিন মাছ ধরতে পারেন। পরে আর ইলিশ তেমন ধরা পড়ে না।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জেলেরা যাতে বেকার না হন, তাই তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিছু জেলেকে বিনা মূল্যে গরু-ছাগল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সীতাকুণ্ডের ২ হাজার ৬০০ জেলে পরিবারকে বছরে চার দফায় ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর বাইরে ৫ হাজার ৪৪০ পরিবারকে নিষেধাজ্ঞার সময় আরও তিন দফায় ১০৫ কেজি করে চাল সহযোগিতা করা হচ্ছে।

সহায়তার চাল আটকানোর অভিযোগ

গত মে মাসে ৪০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা সীতাকুণ্ডের ২ হাজার ৬০০ জেলে পরিবারের। চালের পরিমাণ ১০৪ মেট্রিক টন। তবে জেলেরা এই চাল পাননি। জেলেদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও মৎস্য বিভাগ থেকে ৪০ কেজি করে চাল পাওয়ার জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে অন্তত ২০০ জেলে নিবন্ধন করেন। তবে তাঁদের চালও দেওয়া হয়নি।

মদনাহাট এলাকার জেলে সরদার সুনীল জলদাস প্রথম আলোকে বলেন, মৎস্য বিভাগ থেকে তাঁদের জানানো হয়েছে, পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করতে দেরি করায় চাল ফেরত গেছে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইউএনও কার্যালয় থেকে খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে চালের চাহিদা পাঠাতে দেরি হওয়ায় চাল দিতে সমস্যা হচ্ছে। খাদ্য কর্মকর্তা মে মাসের চাল জুনে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। তা ছাড়া তাঁর দপ্তর থেকেও প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জেলেদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছে তা ঠিক। তবে এর জন্য সহযোগিতার চাল আটকানো হয়নি। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাঁকে না জানিয়ে মাসিক হিসাব পাঠিয়ে দিয়েছেন, যার কারণে জটিলতা দেখা দেয়।

Tuesday, June 25, 2024

গভীর রাতে ছাদ ফুটো করে চার ফাঁসির আসামির পলায়ন

 



বগুড়া জেলা কারাগার থেকে গতকাল গভীর রাতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি ছাদ ফুটো করে দেয়াল পার হয়ে পালিয়েছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আজ সকালে তাঁদের কারাগারের আশপাশের এলাকা থেকে আটক করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বগুড়া জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ ফরিদুর রহমান প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চারজনই ফাঁসির আসামি। তাঁরা পালিয়েছিলেন। আমরা কারাগারের পাশেই তাঁদের পেয়েছি।’





বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) স্নিগ্ধ আখতার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি অনেক স্পর্শকাতর। পুলিশ সুপার এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন।’

পুরো ঘটনা জানতে কারা মহাপরিদর্শকসহ (আইজি-প্রিজন) সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেউই সাড়া দেননি।

আজ সকাল আটটা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির নাম জানা যায়নি। তবে তাঁদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


Tuesday, June 11, 2024

আনোয়ারুল হত্যা: আক্তারুজ্জামানের দুটি গাড়ি গুলশানের বাসা থেকে জব্দ


সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম খুনের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনছবি: সংগৃহীত

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম খুনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত আক্তারুজ্জামানের দুটি গাড়ি জব্দ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। রাজধানীর গুলশানে আক্তারুজ্জামানের ভাড়া বাসার গ্যারেজ থেকে গত শনিবার গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়। গাড়ি দুটির মধ্যে একটি সাদা রঙের প্রাডো মডেলের; অন্যটি মাইক্রোবাস।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত শনিবার বিকেলে ডিবির একটি দল গুলশানে আক্তারুজ্জামানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। পরে বাসার নিচতলার গ্যারেজের থাকা আক্তারুজ্জামানের সাদা রঙের প্রাডো গাড়ি জব্দ করা হয়। একই গ্যারেজ থেকে আরেকটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়।

আমরা সত্যের কাছাকাছি এসে গেছি। মরদেহটি শনাক্ত হলেই অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই ভবনের এক বাসিন্দার গাড়িচালক আবদুল খালেক গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বছর দেড়েক আগে গুলশান–২ নম্বরের ৬৫ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেন আক্তারুজ্জামান। দুদিন আগে পুলিশ বাসার নিচতলার গ্যারেজ থেকে আক্তারুজ্জামানের দুটি গাড়ি জব্দ করে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

আবদুল খালেক বলেন, ঢাকায় থাকলে গাড়ি দুটি ব্যবহার করতেন আক্তারুজ্জামান।

গত ১৩ মে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম।

এদিকে আনোয়ারুল আজীম খুনে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া চারজনের মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া ডিবির আবেদনে বলা হয়েছে, আনোয়ারুল আজীম খুনের ঘটনায় করা মামলায় আলামত হিসেবে চরমপন্থী নেতা শিমুল ভূঁইয়া, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ ওরফে বাবু, শিমুলের ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়া ও শিলাস্তি রহমানের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। খুনের পর তাঁরা নিজেদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন রকম তথ্য আদান-প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন

ডিবি আদালতকে বলেছে, সংসদ সদস্য খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য গ্রেপ্তার চার আসামির মুঠোফোনের কথোপকথন, মুঠোফোনের কল রেকর্ড এবং কী ধরনের তথ্য তাঁরা আদান-প্রদান করেছেন, তা জানা জরুরি। এ ছাড়া আসামিদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এবং মুঠোফোনে থাকা ছবি, ভিডিওসহ অপহরণ ও খুন-সংক্রান্ত কোনো তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে কি না, সেটি জানা প্রয়োজন।

জব্দ করা মুঠোফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে ডিবির করা আবেদন গতকাল মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে ডিবি। এর মধ্যে খুনের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মো. আক্তারুজ্জামান ২০ মে ঢাকা থেকে প্রথমে দিল্লি যান। সেখান থেকে নেপালের কাঠমান্ডু যান তিনি। এরপর দুবাই হয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে ডিবির তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানতে পেরেছে।

আরও পড়ুন

খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন অন্য আসামিদের মধ্যে মো. সিয়াম হোসেন নেপালে আটক হন। এখন তিনি কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আরেক আসামি ‘কসাই’ নামে পরিচিত জিহাদ হাওলাদারও ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন শিমুল ভূঁইয়া, তাঁর ভাতিজা তানভীর ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও কাজী কামাল। এর মধ্যে প্রথম তিনজন অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পলাতক থাকা অন্য আসামিরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, ফয়সাল আলী সাজি, চেলসি চেরি ওরফে আরিয়া, তাজ মোহাম্মদ খান ওরফে হাজি ও মো. জামাল হোসেন।

আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে এখন কাজী কামালকে গতকাল থেকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে ডিবি। তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এখন তিনি কলকাতা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। আরেক আসামি ‘কসাই’ নামে পরিচিত জিহাদ হাওলাদারও ভারতের কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

সংসদ সদস্য খুনের ঘটনায় আরও অনেকেই গ্রেপ্তার হতে পারেন বলে গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। খুনের তদন্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যের কাছাকাছি এসে গেছি। মরদেহটি শনাক্ত হলেই অনেক কিছু প্রকাশ করতে পারব।’