Sunday, September 22, 2024

চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইউনানি-আয়ুর্বেদিক মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক-শিক্ষার্থীরা

 

রাজধানী মিরপুরে অবস্থিত সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ আছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ।

সাত দফা দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৯ দিন ধরে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও কাউন্সিল গঠন করা। দ্রুত সময়ে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধি প্রণয়ন এবং পিএসসির ক্যাডারভুক্ত করার মাধ্যমে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা করা। স্বৈরাচারের দোসর, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন করা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বাড়ানো। সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক অপরাজিতা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দফায় দফায় সভা হলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তাই ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক অবরোধে (কমপ্লিট শাটডাউন) আছেন। পরীক্ষা–ক্লাস সবকিছু বন্ধ। জরুরি বিভাগ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসাসেবাও বন্ধ। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে থাকায় চিকিৎসকেরাও কাজ করতে পারছেন না।

মেডিকেল কলেজের ইউনানি বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আহমদ উল্লাহ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলনে আছেন।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মেহবুবা সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, তারা সংকট সমাধানে কাজ করছেন।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন ‘অ্যাকশনে’ যেতে, বাহিনীর সদস্যরা নির্বিকার

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার (সাদা জ্যাকেট) আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে যান। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বরছবি: দীপু মালাকার

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীতে ছোট পরিসরের একটি আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে দেখা গেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। রোববার রাজধানীর কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনে গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিটরদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনের সড়কটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন দেড় শ থেকে দুই শ অডিটর। তাঁদের দাবি, ১১তম গ্রেড থেকে তাঁদের পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। এই দাবিতে সড়ক অবরোধের কারণে কাকরাইলের আশপাশসহ রাজধানীর বড় অংশজুড়ে যানজট তৈরি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনার জন্য ডাকলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলনকারীদের সড়কের এক পাশে অবস্থান নিতে দফায় দফায় অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা শোনেননি। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরাতে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্বিকার ভূমিকার কারণে বাধে বিপত্তি।

আন্দোলনকারীরা দুপুর সাড়ে ১২টার আগে সিএজি কার্যালয়ের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা কার্যালয়ের ফটকে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে সাঁজোয়া যান আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও জলকামান আনা হয়। বেলা দেড়টার পর আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে হ্যান্ডমাইকে দফায় দফায় অনুরোধ জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সারোয়ার জাহান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে তাঁদের পাঁচ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। তখনো আন্দোলনকারীরা সড়ক না ছাড়লে অডিট ভবনের সামনে সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থান নেয় পুলিশ।

এ সময় অধস্তন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিসি সারোয়ার জাহানকে বলতে শোনা যায়, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি নিয়ে সবাই প্রস্তুত হোন। একপর্যায়ে হ্যান্ডমাইকে তিনি সবাইকে আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা রমনা জোনের এডিসি, রমনার এসি (পেট্রল), রমনা থানার ওসিসহ কয়েক পুলিশ সদস্য ছাড়া অধস্তন আর কাউকে এগোতে দেখা যায়নি।

ডিসি সারোয়ার জাহান দফায় দফায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের (ফোর্স) উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। বলেন, ‘সাহস নিয়ে আপনারা এগিয়ে আসুন।’ এ সময় কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সরাসরি বলতে শোনা যায়, তাঁরা কোনো ‘অ্যাকশনে’ যেতে পারবেন না। এই সুযোগে সড়কে দোয়া ও মোনাজাত শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

জলকামান থেকে গরম পানি ছুড়ে  আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
জলকামান থেকে গরম পানি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

পুলিশ কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান কয়েকজন কনস্টেবল ও এসআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সাউন্ড গ্রেনেড মারতে পারো না তুমি?’ তখন তাঁদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পারি না, স্যার।’ এপিবিএনের দলটির কাছে গিয়ে ডিসি সারোয়ার বলেন, ‘তোমরা কি আমার কথা শুনবা না?’ এ সময় এক এপিবিএনের একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যেতে পারব না, স্যার।’ অনেকেই আবার নিজেদের মধ্যেও আলাপ করছিলেন, যেন কেউ সামনে না যায়। দুই এসআইকে কনস্টেবলদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘যা বলে বলুক, চুপ করে থাকো।’

এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় রমনার ডিসি সারোয়ার জাহানকে। সবশেষে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে নিজের ব্যর্থতার কথা মুঠোফোনে বলতে শোনা যায় পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসিকে। তিনি তখন বলছিলেন, ‘স্যার, কেউ কথা শুনছে না। বারবার বলেছি, কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।’

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাকরাইলের সড়কের অবরোধ করা অংশে দেখা যায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) সানা শামীনুর রহমানকে। তবে তিনি আসার পরও অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানো যায়নি।

বেলা ৩টা ১৭ মিনিটে আন্দোলনকারী অডিটরদের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, তাঁরা সড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে সেগুনবাগিচার দিকে চলে যাবেন। আগামীকাল (সোমবার) আবার তাঁদের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ তখন আবার বলছিলেন, এখনই না গিয়ে সড়কে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা চলে যাবেন।

অডিট ভবনের ফটকে অবস্থান নেন সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
অডিট ভবনের ফটকে অবস্থান নেন সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

এরই মধ্যে অডিট ভবনের সামনে উপস্থিত হন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি এসে সব ফোর্সকে ডেকে একত্র করেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ধাক্কা দিয়ে সড়কের বাইরে নিতে থাকেন। তখন আন্দোলনকারীরাও তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ এগিয়ে যায়। তখন আন্দোলনকারীদের বড় অংশ রাস্তা ছেড়ে দিতে থাকেন।

এ সময় সড়ক থেকে সরে না যাওয়া বাকি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে জলকামান থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। তখন বাকিরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিট ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন অডিটরেরা। কাকরাইল, ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিট ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন অডিটরেরা। কাকরাইল, ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ডিসি পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। যুগ্ম কমিশনার অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের কথা কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যায়ের সদস্যরাও কেন শুনছেন না—তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন প্রত্যেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে প্রথম আলো। তবে তাঁদের কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, ‘ঢাকায় পুলিশের অধস্তন পর্যায়ের সদস্যদের বড় অংশই শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের। তাই তারা কথা শুনতে চায় না। অনেকে আবার ঢাকায় নতুন আসায় বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না। সব মিলিয়ে আমরা খুবই বিপাকে 

Saturday, September 21, 2024

মুখে না দিয়েও আমের স্বাদ বোঝা যাবে ‘ইলেকট্রনিক নাক’ দিয়ে

 

গবেষণাকাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান ও এম মিরাজুস সালেহীন।


‘আম মিষ্টি হবে তো?’ শুরুতেই আমরা জিজ্ঞেস করি বিক্রেতাকে। তারপর নেড়েচেড়ে দেখি, ঘ্রাণ নিই। ঝুড়ি থেকে বেছে বেছে ভালোগুলো তুলে নিই। এত ‘পরীক্ষা-নিরীক্ষা’র পরও অনেক সময় বাড়ি ফিরে দেখা যায়, আম ভালো পড়েনি। এবার সত্যিকার অর্থেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আমের মান নির্ণয়ের পদ্ধতি বের করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি দল। তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে আম না কেটেই এর মিষ্টতা ও পরিপক্বতা পরীক্ষা করা সম্ভব।

গবেষণাকাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক আনিসুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের দুই শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান ও এম মিরাজুস সালেহীন। ইতিমধ্যে গবেষণাপত্রটি কিউ-ওয়ান ক্যাটাগরির জার্নাল স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক চয়ন কুমার সাহা ও তিন শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম, জয়শ্রী ভদ্রা ও ঋতুপর্ণা রায় কাজ করেছেন।

আমের মিষ্টতা নির্ণয়ের এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘ই-নোজ’, যা এম-কিউ সেন্সরের মাধ্যমে কাজ করে। কেন এই নাম? অধ্যাপক আনিসুর রহমান বললেন, ‘আমের গুণমান বুঝতে আমরা ঘ্রাণ শুঁকি, নাকের কাছে নিই। সেই একই কাজ যন্ত্র দিয়ে করা হচ্ছে বলে এর নাম ই-নোজ বা ইলেকট্রনিক নাক। কাঠামোটি তৈরিতে স্বল্পমূল্যের চারটি এমকিউ সেন্সর, একটি রাস্পবেরি পাই, ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, ভোল্টেজ কনভার্টার, আর্ডিনো মেগা ও বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ৪০-৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।’

ই-নোজের চারটি অংশ—গ্যাস চেম্বার, সেন্সর চেম্বার, ডেটা কন্ট্রোলার ও ডেটা স্টোর মডিউল। গবেষক দলের সঙ্গে কথা বলে এর কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেল—পরীক্ষার জন্য একসঙ্গে চার-ছয়টি আম গ্যাস চেম্বারে রাখা যায়। আমগুলো গ্যাস (ঘ্রাণ) নির্গত করতে থাকে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর এই গ্যাস সেন্সর চেম্বারে নেওয়া হয়। সেন্সরগুলো গ্যাসের ইলেকট্রনিক সংকেত তৈরি করে। সবশেষে উৎপন্ন সংকেতের ওপর ভিত্তি করে ডেটা স্টোর মডিউল আমের মিষ্টতা ও পরিপক্বতা নির্ণয় করে। অধ্যাপক আনিসুর রহমান দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই একটি আম পরীক্ষা করা সম্ভব।

দীর্ঘ আড়াই বছর গবেষণার পর দলটি সফল হলো। এর মাধ্যমে কৃষক-ব্যবসায়ী উভয়ই উপকৃত হবে বলে জানালেন গবেষক দলের প্রধান আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাপানে একই ফল কয়েকটি ভাগে বিক্রি করা হয়। একেকটার গুণগত মান একেক রকম থাকে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন একটা সময় আসবে, যখন বাংলাদেশের মানুষের আয় বাড়বে। তাঁরা বেছে বেছে ভালো মানের ফল, মিষ্টি ফল খেতে চাইবেন। তখন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো খাদ্য প্রস্তুত করতে পারবেন।’

আরও পড়ুন

কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী সাকিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৯৮.৩ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক মিষ্টতা ও ৯৮.৫ শতাংশ পর্যন্ত সঠিক পরিপক্বতা নির্ণয় করা সম্ভব। সুতরাং এই গবেষণার প্রথম উপকারভোগী হবেন আমচাষিরা। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বি

Monday, September 2, 2024

গরমে ছুটে চলার সময় শরীরে বহনযোগ্য এসি!

 

গরমের সময় যেমন শরীর ঠাণ্ডা রাখবে, বিপরীতে শীতে শরীর গরম রাখবে; যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ব্লুটুথের মাধ্যমে। এখন কোনো ব্যক্তি চাইলেই পোশাকের সঙ্গে ঘাড়ে একটি ডিভাইস লাগিয়ে বাতাস গ্রহণের সুবিধা পাবেন। ডিভাইসটি ছোট্ট একটি এসি। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বাইরে ছুটে চলার সময়ও শরীরে এমন একটি এয়ারকন্ডিশনার (এসি) থাকবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধুনিক এ ডিভাইসটির সুবিধা হচ্ছে- এটি ঘাড়ে আটকানোর পরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কুলিং বা হিটিং প্রক্রিয়া শুরু হবে। আপনাকে নিজ থেকে আর কিছু করার প্রয়োজন হবে না। এতে কুলিং লেভেল রয়েছে পাঁচটি। ব্যবহারকারী তার প্রয়োজন মতো লেভেল সেট করতে পারবেন। আবার এর সঙ্গে রিয়ন পকেট ট্যাগও সাপোর্ট করে; যা রিমোট সেন্সর হিসেবে কাজ করে থাকে।

ডিভাইসটি ক্লাইমেট কন্ট্রোল ফিচার সমৃদ্ধ। এতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও মোশনের সেন্সর রয়েছে। ডিভাইসটির বিশেষত্ব হচ্ছে- এটি কুলিং ও হিটিং দুটিই করতে পারে। গ্রীষ্মকাল ছাড়া শীতেও ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া কয়েকটি কন্ট্রোল বাটন রয়েছে; যা দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

ডিভাইসটির জন্য রিয়ন ন্যামের একটি অ্যাপ তৈরি করেছে সনি প্রতিষ্ঠান; যা আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড, দুই ধরনের স্মার্টফোনেই সাপোর্ট করে। সনি রিয়ন পকেট ৫ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে গ্রাহক ক্রয় করতে পারবেন। তবে এটি কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে পাওয়া যাচ্ছে।

ডিভাইসটি ইতোমধ্যে চারটি সংস্করণ লঞ্চ করেছে। এখন যেটি লঞ্চ করা হয়েছে, সেটি পঞ্চম সংস্করণ। ডিভাইসটির প্রথম মডেলটি লঞ্চ হয়েছিল এখন থেকে পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৯ সালে। নাম সনি রিয়ন পকেট ৫। ছোট্ট এই এসিটি এক ধরনের পরিধানযোগ্য জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, যা ফ্যানের বিকল্প। অনেকটা ইয়ারবাডের মতো দেখতে। এর কার্যকারিতা অনেক বেশি বলে দাবি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনির।

ভারতের কূটনৈতিক মাথাব্যথার কারণ শেখ হাসিনা

 

শেখ হাসিনাকে অনেকে গত এক যুগ ধরে ‘আয়রন লেডি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।  ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করা শেখ হাসিনা অস্থায়ীভাবে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।

সাড়ে ১৫ বছর যাবত দোর্দণ্ড প্রতাপে ক্ষমতায় টিকে থাকা একজন প্রধানমন্ত্রী এভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন সেটি অনেক ধারণাই করতে পারেননি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর কোনো ব্যক্তি এভাবে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হননি।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে উৎখাত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যান ভারতে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের জন্য এখন কূটনৈতিক মাথাব্যথা হয়ে উঠেছেন হাসিনা৷

১৫ বছরের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধীদের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে এ গণআন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের দাবি, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক৷

কিন্তু ৭৬ বছর বয়সি হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে হলে দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যান্য প্রতিবেশীদের কাছে ভারতের অবস্থান ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে৷ বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে যখন চীনের সঙ্গে দ্বৈরথ চলছে, এমন একটা সময়ে এই উদাহরণ অনেকে ভালো দৃষ্টিতে নাও নিতে পারেন৷

বিরোধ সমাধান বিষয়ক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের টমাস কিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভারত স্পষ্টতই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় না৷ এর ফলে নয়া দিল্লির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকা এ অঞ্চলের অন্যান্য নেতাদের কাছে একটা বার্তা পাঠানো হবে... যে শেষ পর্যন্ত, ভারত আপনাকে রক্ষা করবে না৷ বিষয়টা ভারতের জন্য খুব ইতিবাচক হবে না৷'' 

গত বছর মালদ্বীপে এমন এক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন, যিনি জেতার পরপরই নয়া দিল্লির বদলে কৌশলগতভাবে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন৷

হাসিনার পতনের ফলে ভারত এই অঞ্চলে তার ঘনিষ্ঠতম মিত্রকে হারিয়েছে৷

শেখ হাসিনার অধীনে যারা নির্যাতিত হয়েছেন, তারা তার সরকারের সংঘটিত নির্যাতনের জন্য ভারতকেই অনেকাংশে দায়ী করেন৷ ভারতের হিন্দু-জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনীতিও সেই বৈরিতা ছড়াতে ভূমিকা রেখেছে৷

৮৪ বছর বয়সি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি৷ বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রক্ষা করার জন্য ইউনূসের প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করেছেন মোদি৷

ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সপ্তদশ শতকের লাল কেল্লা থেকে দেয়া ভাষণে মোদি বাংলাদেশি হিন্দুদের বিপদে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ফোনালাপেও বিষয়টি উত্থাপন করেন৷

শেখ হাসিনার পতনের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং মন্দিরের ওপর কিছু হামলার ঘটনা ঘটে৷ এসব ঘটনার নিন্দাও জানানো হয়েছে বাংলাদেশের আন্দোলনকারী এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে৷ কিন্তু ভারতের সরকার সমর্থক বেশকিছু সংবাদমাধ্যমে এসব ঘটনার অতিরঞ্জিত বিবরণ দেশটিতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়েছে৷

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারত হাসিনাকে সমর্থন করে ‘তার সব ফল এক ঝুড়িতে রেখে দিয়েছে' এবং পরিস্থিতি কীভাবে বদলাতে হবে সেটা বুঝতে পারেনি। হাসিনার আমলে গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীদের একজন মির্জা ফখরুল এএফপিকে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সাথে ভালো সম্পর্ক চায়, কিন্তু সেটা নিজেদের স্বার্থের বিনিময়ে নয়৷

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতের মনোভাব এই আত্মবিশ্বাস তৈরির জন্য অনুকূল নয়৷

এমন অনাস্থা এবং অবিশ্বাসের পরিস্থিতিতেই আগস্ট মাসে ভয়াবহ বন্যা আক্রান্ত হয় দুই দেশই৷ অনেক বাংলাদেশির পক্ষ থেকে ভারতকে এই বন্যার জন্য দায়ী করা হয়৷

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এখনও প্রকাশ্যে নয়া দিল্লির কাছে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেনি৷ কিন্তু কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করার কারণে নয়া দিল্লির কাছে একটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করা হাসিনার অন্য কোনো দেশে যাওয়াটাও কঠিন হয়ে পড়েছে৷

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়েছিল৷ এর অধীনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার সুযোগ রয়েছে৷

তবে চুক্তির একটি ধারায় অপরাধ ‘রাজনৈতিক চরিত্রের’ হলে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও দেয়া হয়েছে দুই দেশকে৷

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী এএফপিকে বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চাপ দেওয়ার চেয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

তিনি বলেন, ‘যে কোনো বুদ্ধিমান সরকার বুঝতে পারবে যে হাসিনার ভারতে থাকার বিষয়টিকে ইস্যুতে পরিণত করা তাদের জন্য কোনো সুবিধা তৈরি করবে না৷’


পৃথিবীসেরা স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে শিক্ষক হলেন বুয়েটের তৌহিদুল

 

বুয়েট প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. তৌহিদুল ইসলামছবি: লেখকের সৌজন্য

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং অনুসারে পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেরা ১০–এর মধ্য কয়েক বছর ধরেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পৃথিবীর সব দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের। এখানে না পড়েও অসাধারণ ফলাফল ও গবেষণার জন্য সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. তৌহিদুল ইসলাম।

রাজশাহীর ছোট্ট মফস্‌সল শহর চারঘাটে বেড়ে ওঠা তৌহিদুলের। তাঁর বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে বড় হয়ে চিকিৎসক হবেন। আর ফুফু-ফুফা বলতেন, ‘তোমার যা করতে ভালো লাগে, তুমি সেটাই করো।’

তৌহিদুল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার পর ২০০৫ সালে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হই। বুয়েটে মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্যার ও সেলিয়া শাহনাজ ম্যাডামের কাছে গবেষণার হাতেখড়ি। বুয়েট থেকে ৩.৮২ সিজিপিএ নিয়ে পাস করার পর সেলিয়া শাহনাজ ম্যাডামের অনুপ্রেরণায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার জন্য আবেদন করি এবং স্কলারশিপসহ ২০১৪ সালে পড়তে যাই।’


চিকিৎসা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বর্তমানে গবেষণা করছেন তৌহিদুল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কীভাবে আগে থেকে হৃদ্‌রোগ, মস্তিষ্কের রোগ ও ক্যানসার নির্ণয় করা যায়, সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। কী ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহার করে ক্যানসার রোগীদের জীবনমান ভালো করা যায় এবং চিকিৎসায় সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়—এটিও তাঁর গবেষণার একটি বিষয়।

এখন পর্যন্ত ৪৪টি পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে পিএইচডিতে ২২টি প্রবন্ধ রয়েছে। পোস্টডক্টরাল সময়ে পাঁচটি ফার্স্ট অথর প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যেগুলো সম্মানজনক নেচার সাবজার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার জন্য গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ থেকে সম্মানজনক কে৯৯/আর০০ পাথওয়ে টু ইনডিপেনডেন্স অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, স্ট্যানফোর্ড ক্যানসার ইনস্টিটিউট এবং স্ট্যানফোর্ড এইচএআই অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন।


তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্ট্যানফোর্ডে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চাকরি পাওয়ার যাত্রাটি বেশ দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। বাংলাদেশ থেকে আমিই প্রথম স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে টেনিউর ট্র্যাক (স্থায়ী) সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছি, যা আমার জন্য অনেক বড় এক অর্জন। আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়া কঠিন এবং ধাপে ধাপে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা হয়। কয়েকবার ইন্টারভিউ দিতে হয়। আমি বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম। আমার পিএইচডি শুরুর পর থেকেই স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার এবং আমার প্রথম পছন্দ ছিল স্ট্যানফোর্ড।’



তৌহিদুল ইসলাম
তৌহিদুল ইসলাম
ছবি: লেখকের সৌজন্য

তৌহিদুল বলেন, ‘গত ছয় মাসে অসংখ্য জুম ইন্টারভিউ, অনসাইট ইন্টারভিউ এবং স্যালারি নিয়ে আলোচনার মিটিংয়ের মধ্য দিয়ে গেছি। অবশেষে আমেরিকার প্রথম পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তিনটি থেকে অফার পাই। এ সময়টাতে অনেক চিন্তা এবং আমার পিএইচডি ও পোস্টডক মেন্টরদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সবকিছু বিবেচনা করে আমি স্ট্যানফোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিই। আলহামদুলিল্লাহ! এখন থেকে স্ট্যানফোর্ডকে আমার নতুন বাড়ি বলতে পারব।’



স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫ সালে তৌহিদুলের অধীনে নতুন ল্যাব চালু হবে। তিনি বলেন, ‘আমার ল্যাবে বেশ কয়েকজন পিএইচডি স্টুডেন্ট ও পোস্টডক নেওয়া হবে। যাঁরা মেডিকেল ডেটা বিশ্লেষণ, রোগ নির্ণয়, মেশিন লার্নিং, ডিপ লার্নিং বা পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করেন, তাঁরা আমার ল্যাবের জন্য উপযুক্ত হবেন।’

যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের উদ্দেশে তৌহিদুল বলেন, ‘স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পিএইচডি ও মাস্টার্স করতে ইচ্ছুক, তাঁদের আইইএলটিএস ও জিআরই-তে ভালো স্কোর থাকতে হবে। এ ছাড়া স্নাতক পর্যায়ের সিজিপিএ বেশি থাকতে হবে। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, বায়োমেডিকেল ডেটা সায়েন্স ও বায়ো–ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা যদি স্ট্যানফোর্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে চান, যেকোনো পরামর্শের জন্য আমাকে ই–মেইল করতে পারেন। আমি তাঁদের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব।’


ঢাকায় আসছেন ডোনাল্ড লু

 

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার জন্য তিনি জরুরি আলোচনায় ঢাকা আসছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে মার্কিন একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ঢাকা সফরে আসছেন তিনি।

প্রতিনিধি দলে যুক্ত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ও অর্থ দফতরের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন বিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিনিয়র ডিরেক্টর লিন্ডসে ফোর্ড।

মার্কিন কূটনীতিক ডোনাল্ড লু সর্বশেষ গত মে মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটি ডোনাল্ড লু তথা যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রতিনিধি দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর হতে যাচ্ছে।