Tuesday, October 1, 2024

গণত্রাণের ১০ কোটি টাকা ব্যাংকে আছে, তার ৮ কোটি যাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বন্যার্তদের জন্য গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ত্রাণ কার্যক্রমের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার টিএসসিতে এক সংবাদ সম্মেলনেছবি: প্রথম আলো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বন্যার্তদের জন্য গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ত্রাণ কার্যক্রমের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গণত্রাণের ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা দুটি ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে। বাকি ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মানুষের জন্য খরচ করা হবে।

মঙ্গলবার রাতে টিএসসি মিলনায়তনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ত্রাণ কার্যক্রমের হিসাবসংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশসহ উত্তরবঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা পাওয়া যায়নি বলে জানান চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট আজিজ হালিম খায়ের চৌধুরী ও অডিটর গোলাম ফজলুল কবির।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন, মোট ১১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৪২০ টাকার তহবিল সংগ্রহ হয়েছিল। এর মধ্যে ৯ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা নগদ এবং বাকি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, প্রাইজ বন্ড, ডলার ও অন্যান্য মাধ্যমে আসে। এর মধ্যে মোট খরচ হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ২০৭ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা রয়েছে।

ফজলুল কবির বলেন, ‘তাঁরা (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন) জরুরি ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়েছিলেন। তবে আমরা বলেছি, এগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা উচিত নয়। এতে আইনগতভাবে এর মালিকানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাতে থাকে না। তাঁরা আমাদের কথা শুনেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় বন্যা পুনর্বাসন কেন্দ্রের সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমরা এই টাকাটা দুইভাবে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ৮ কোটি টাকা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গের বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার রাতে আমাদের পাঁচটি টিম সেখানে গেছে। সেখানে জেলা প্রশাসন ও ছাত্র প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আমরা আমাদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করব। আগামীকাল থেকেই সেটি শুরু হবে।’

তহবিলে টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণ

ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি আর্থিক হিসাব দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেখানে ১১ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৯ টাকা আয় এবং ১ কোটি ৭৫ লাখ ১২ হাজার ৭৯৪ টাকার হিসাব দেওয়া হয়। সেই হিসাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছে অবশিষ্ট ছিল ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭৫ টাকা। কিন্তু নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবশিষ্ট রয়েছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫১ হাজার ২১৩ টাকা।

অবশিষ্ট টাকার এই অমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আগের হিসাব ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এরপরও আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে অর্থ এসেছে, যেগুলো অডিটে যোগ হয়েছে। এ ছাড়া অনেকগুলো চেক এসেছিল, যেগুলো আমরা তখন ক্যাশ করাতে পারিনি। সেগুলো ক্যাশ করার পর এখানে যুক্ত করা হয়েছে। অনেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে চেক দিয়েছেন। কিন্তু তখনো এই নামে আমাদের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না।’

হাসনাত বলেন, ‘ত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে অনেকে গয়না দিয়েছেন, যেগুলো আমরা বিক্রি করে টাকা পেয়েছি। টিএসসিতে ত্রাণ কার্যক্রমের পর থেকে যাওয়া কার্টুন এবং অন্যান্য সামগ্রী বিক্রির টাকা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া এক বস্তার মতো কয়েন ছিল, যেখানে ২ লাখ টাকার বেশি হয়েছে। এগুলো আগে গণনা করা যায়নি। এসব কারণে অবশিষ্ট টাকার পরিমাণ বেড়ে গেছে। একজন ব্যক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক দিয়েছিলেন, কিন্তু অ্যাকাউন্ট না থাকায় তখন আমরা সেটি তুলতে পারিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা চাইলে শুরুতেই একটি অডিট রিপোর্ট করে দিতে পারতাম। কিন্তু তাতে স্বচ্ছতা নিরূপণ করা যেত না। আমরা কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই অডিট ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা সময় নিয়ে কাজটি করে আজ প্রতিবেদন দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার, আবদুল কাদের, মাহিন সরকার, হাসিব আল ইসলাম প্রমুখ।

Monday, September 30, 2024

নিজের রিভলভারে গুলিবিদ্ধ অভিনেতা গোবিন্দা, নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে

 



নিজের রিভলভারের গুলিতে আহত হয়েছেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Loaded: 12.29%
Remaining Time 9:57

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সাতসতালে শুটিংয়ে বের হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিনেতার পায়ে গুলি লেগেছে। সেটাও আবার নিজের রিভলভার থেকে। এরপরই তড়িঘড়ি তাকে মুম্বাইয়ের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

১১৯ বছর’ বয়সেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করেন শ্রীমঙ্গলের রাম সিং

 

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাম সিং গড়ের বয়স ১১৯ বছর। উপজেলার মেকানীছড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবারছবি: প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম মেকানীছড়া। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা এই গ্রাম ঘুরলে অন্য এলাকার চেয়ে বয়স্ক মানুষ একটু বেশিই চোখ পড়ে। তাঁদের সবার মধ্যে প্রবীণ মানুষটির নাম রাম সিং গড়। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বলছে, রাম সিংয়ের বয়স ১১৯ পেরিয়েছে। এই বয়সেও তিনি দিব্যি চলাফেরা করছেন। বাড়ির ছোটখাটো কাজ নিজ হাতেই করছেন। চশমা ছাড়াই বই পড়তে পারেন।

জাতীয় পরিচয়পত্রে রাম সিং গড়ের জন্মতারিখ ১৯০৫ সালের ৬ আগস্ট। তাঁর বাবার নাম বুগুরাম গড় ও মায়ের নাম কুন্তী গড়।

মেকানীছড়া গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রাম সিংয়ের বয়স ১১৯ বছর হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁর বয়স আরও বেশি হবে। সঠিকভাবে যাচাই–বাছাই করে আবেদন করলে তিনি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষের স্বীকৃতি পেতে পারেন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তির (জীবিত) স্বীকৃতি পেয়েছেন জাপানের তমিকো ইতোকা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বয়স ছিল ১১৬ বছর ১১৬ দিন। এখন অবধি সবচেয়ে বেশি বয়স পর্যন্ত বাঁচার রেকর্ডটি ফ্রান্সের নাগরিক জেন লুইস ক্যালমনের। তিনি ১৮৭৫ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১২২ বছর ১৬৬ দিন বেঁচে ছিলেন।

মেকানীছড়া গ্রামের বৃদ্ধা সরস্বতী গড়ের বয়স এখন ৮০ বছর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি যখন এই এলাকায় বিয়ে করে আসি, তখন রাম সিং গড়ের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই বছর আগে ওনার মেয়ে মারা যান। মেয়ের বয়সও আশির বেশি হবে। তিনি আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক লোক। এখন অনেক কিছু ভুলে যান, তবে একসময় সব ইতিহাস আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনতাম।’

রাম সিংয়ের পূর্বপুরুষেরা চা চাষের জন্য ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারত থেকে এই অঞ্চলে পাড়ি জমিয়েছিলেন। রাম সিং প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হয়, তখন তিনি হরিণছড়া চা–বাগানের চৌকিদার ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও তিনি চা-বাগানেই কাজ করতেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদের মারা যাওয়ার খবর তখন তিনি শুনেছিলেন। ১৯৬৫ শ্রীমঙ্গল বিদ্যাবিল চা–বাগানে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে তিন থেকে চার দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। গোলাগুলি হয়েছিল। তখন তিনি বিদ্যাবিল চা–বাগানে ছিলেন। সেখান থেকে সরে আসেন পুটিয়া চা–বাগানের দিকে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হরিণছড়া চা–বাগানের ব্যবস্থাপক ও কর্মীরা পালিয়ে যান। কিন্তু তিনি পালাননি। তিনি ও হরিণছড়া চা-বাগানের শ্রমিক নীরেন হাদিমা মিলে শ্রমিক সংগ্রহ করে চা–পাতা তুলে খেজুরি চা–বাগানে পাঠান। পুরো ৯ মাস বাগানে থেকে হরিণছড়া চা–বাগান রক্ষা করেন।

রাম সিংয়ের বর্ণনায় পুরোনো শ্রীমঙ্গল শহরের একটি বর্ণনা পাওয়া গেল। তিনি বলেন, তিনি শ্রীমঙ্গলের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখায় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। তখন ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের এক পাশে পাকা ঘর ছিল, আরেক পাশে ছিল শণের ঘর। এই শণের ঘরেই তিনি ক্লাস করতেন। তখন তিনি মৌলভীবাজার সড়কের কোনো এক আচার্যের বাড়িতে থেকে পড়তেন। এ সময় শ্রীমঙ্গলে পাকা সড়ক হয়নি। তাঁর ভাষ্যমতে, পাকা ঘর বলতে শ্রীমঙ্গল পুরোনো বাজারে একটি ত্রিপুরা রাজ্য ব্যাংক, রামরতন বানিয়ার বাসা ও জগন্নাথ জিউর আখড়ার পশ্চিমে ত্রিপুরা রাজার বাংলো ছিল। মাঝেমধ্যে ত্রিপুরার রাজা হাতির পিঠে চড়ে এই বাংলোয় এসে থাকতেন এবং এখান থেকে খাজনা আদায় করতেন।

রাম সিং মনে করেন, তাঁর বয়স ১৩০ বছরের ওপরে হবে। তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ৬৫ থেকে ৬৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই সংসারে তাঁর পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে জন্ম নেয়। আগের সংসারে শুধু একটি মেয়ে ছিল। আগের সংসারের মেয়ে ও পরের সংসারের বড় ছেলে ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। ছেলেমেয়েরা একাধিক নাতনির বিয়ে দিয়েছেন। নাতি-নাতনির সন্তানেরাও এখন বিয়ের উপযুক্ত হয়ে গেছেন।

হরিণছড়া চা–বাগানের শ্রমিক নীরেন হাদিমার বয়সও ৮০ পেরিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুবক বয়সে যখন রাম সিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়, তখন তিনি আমার বয়সের তিন গুণ বড় ছিলেন। আমরা একসঙ্গে অনেক দিন কাজ করেছি। রাম সিংয়ের বয়স ১৩০–এর কাছাকাছি হবে।’

শ্রীমঙ্গল উপজেলা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ক তাজুল ইসলাম জাবেদ প্রথম আলোকে বলেন, রাম সিং গড়ের তথ্য জানতে পেরে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। পরে যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পান। স্থানীয় অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, রাম সিংয়ের বয়স জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১১৯ বছর হলেও প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি হবে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তাঁর সব তথ্য পাঠানো হবে। আশা করছেন, সারা বিশ্বে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।

শ্রীমঙ্গলের ইউএনও মো. আবু তালেব প্রথম আলোকে বলেন, রাম সিংয়ের বিষয়ে জানার পর সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। সব তথ্য–উপাত্ত নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনেক দিন আগেই বয়স ১০০ পার হলেও এখনো নানা কাজ করতে পারেন রাম সিং গড়। তাঁর ছেলে জগদীশ গড় বলেন, তাঁর বাবা বাড়িতে বসে বসে বাঁশ ও বেত দিয়ে হাতপাখাসহ নানা জিনিস বানান। রান্নার জন্য শুকনা কাঠ সংগ্রহ করেন। এই বয়সে এসেও তিনি প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার হাঁটাহাঁটি করেন। কানে কিছুটা কম শোনেন, তবু লোকজনের সঙ্গে গল্প করতে বিভিন্ন বাড়িতেও যান।