Wednesday, December 18, 2024

নগদের ৪১ পরিবেশক, ২৪ হাজার এজেন্ট ও ৬৪৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত

 

মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান ‘নগদ লিমিটেড’ ব্যাংকে জমা টাকার অতিরিক্ত ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি তৈরি করেছে। পাশাপাশি অনুমোদনবিহীন পরিবেশকের মাধ্যমে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এটাকে ডিজিটাল জালিয়াতি বলা হলেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। কারণ, মামলা কে করবে তা নিয়ে এক মাস ধরে ডাক অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে নগদ লিমিটেডের ৪১ পরিবেশক ও ২৪ হাজার ৯৭ এজেন্টকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিযুক্ত প্রশাসক। পাশাপাশি ৬৪৩ জন বিক্রয় কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডাক অধিদপ্তরের কাছে সুপারিশ করেছেন নগদের প্রশাসক।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগদ লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ এই এমএফএস সেবার উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই ব্যবসা শুরু করে। এটির পরিচালনায় প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন। ফলে হিসাব খোলা থেকে শুরু করে সরকারি ভাতা বিতরণে একচ্ছত্র সুবিধা পায় নগদ। এই সুযোগে বড় ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর প্রশাসক দলের পরিদর্শনে বড় ধরনের ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি ধরা পড়ে। সে জন্য গত ১৮ নভেম্বর আইনি ব্যবস্থা নিতে ডাক অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেন প্রশাসক। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক সভাও হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র হুসনে আরা শিখা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নগদের ঘটনা সম্পর্কে অবগত। এই ঘটনায় কে মামলা করবে, সেই সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ডাক অধিদপ্তরের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আইনজীবীর মতামত নেওয়া হচ্ছে। এরপরই সিদ্ধান্ত হবে।’

শাস্তি যা হলো

ডাক অধিদপ্তর ও থার্ড ওয়েভ টেকনোলজির মধ্যে ২০১৭ সালে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, ব্যাংকে যত টাকা জমা থাকবে ঠিক তার সমপরিমাণ ই-মানি ইস্যু করা যাবে। তবে প্রশাসক দল পরিদর্শনে দেখতে পায়, ব্যাংকে যে টাকা জমা আছে তার চেয়ে অতিরিক্ত ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ইস্যু করেছে নগদ।

এ ছাড়া নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে আসে, অনুমোদন ছাড়াই নগদে ৪১ পরিবেশকের মাধ্যমে ১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। মূলত ই-মানির বিপরীতে নগদ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এসব পরিবেশকের দায়িত্ব ছিল সরকারি ভাতা বিতরণ করা। এই ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় ৪১ পরিবেশকের পাশাপাশি ২৪ হাজার ৯৭ এজেন্টকেও বরখাস্ত করেছেন নগদে নিযুক্ত প্রশাসক। ৩ হাজার ৮৩১টি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট বা ব্যবসায়িক হিসাব বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া নগদের ৬৪৩ জন বিক্রয় কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে যেসব গ্রাহক যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া নগদে হিসাব খুলেছিলেন তাঁদের হিসাবগুলো এখন হালনাগাদ করা হচ্ছে। যথাযথভাবে হিসাব না খোলায় অনেকের হিসাব স্থগিত করা হয়েছে।

Monday, November 25, 2024

tttt

 



মির্জা ফখরুলের স্ট্যাটাস ঘিরে নানা আলোচনা

 

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর সচরাচর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন না। তবে রোববার (২৪ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি একটি স্ট্যাটাস দেন। সেই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর সেটিকে ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা-কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। 

ওই স্ট্যাটাসে বিএনপি মহাসচিব লেখেন, United we stand, divided we fall, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘একতায় উত্থান, বিভেদে পতন।’

সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত স্ট্যাটাসটি তিন হাজারের বেশি বার শেয়ার হয়েছে এবং তাতে রিঅ্যাকশন পড়েছে ১৯ হাজারের বেশি। 

ওই স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘ভুল কোচ ধরলে গোল কিন্তু নিজেরাই নিজের জালে দেবে!’

আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘খুনি হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের জনগণ দেখতে চায় না। তাদের পুনর্বাসনের চিন্তা ভাবনা যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ 

অন্যজন লিখেছেন, ‘দিল্লির গোলামী বাংলাদেশে করতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের চিন্তায় যারা মগ্ন, তাদেরকে বাংলাদেশের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।’

তার এই স্ট্যাটাসকে বিশেষভাবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।  কারণ তিনি এমন সময় এই স্ট্যাটাস দিলেন যখন দেশে বিভিন্ন জায়গায় অরাজকতা চলছে। রাজধানীতে গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাটারি রিকশাচালকরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে সড়কে নেমেছেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সংঘর্ষ হচ্ছে। এদিকে রোববার প্রথম আলোর কারওয়ান বাজার অফিসে ‘জিয়াফত’ ও ‘গরু জবেহ’ কর্মসূচি ডাকে একদল লোক।

যৌক্তিক মামলা না নিলে ১ মিনিটে সাসপেন্ড: ডিএমপি কমিশনার

 

যৌক্তিক মামলা না নেওয়ার অভিযোগ আসলে ওসিকে এক মিনিটে সাসপেন্ড (বরখাস্ত) করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (২৫ নভেম্বর) ডিএমপি সদর দপ্তরে অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।


বৈঠকে একজন রিকশাচালক বলেন, আমাকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় রোববার মারধর করা হয়। এমন অভিযোগে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আপনি মামলা করেননি কেন? মামলাযোগ্য হলে অবশ্যই ওসিদের মামলা নিতে হবে। মামলা না নিলে সেই থানার ওসিকে এক মিনিটে সাসপেন্ড (বরখাস্ত) করা হবে।

ভালো নির্বাচন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই: কমিশনার আবুল ফজল

 

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, জাতি একটা ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে একটা ভালো নির্বাচন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার।

গতকাল রোববার শপথ নেওয়ার পর আজ সকালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কমিশন। বৈঠক শেষে কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। কোন পরিস্থিতিতে এই সরকার গঠন করা হয়েছে, সেটা আলোকপাত করা হয়েছে। জাতির প্রত্যাশা এবং আমরা কী চাই, সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের চাওয়া ভেরি সিম্পল। একটা সুন্দর নির্বাচন।’

দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তাদের সিইসি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একনিষ্ঠতা, সততা, জবাবদিহির ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।

কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মনে করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা কমিশন সমন্বিতভাবে মনে করি, মোর দ্যান দ্য চ্যালেঞ্জ, আমরা মনে করি, এটা অপরচুনিটি। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই আছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্যই আমরা এখানে আছি। এটা অপরচুনিটি ভাবছি এই জন্য, জাতি একটা ক্রান্তিলগ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই, একটা ভালো নির্বাচন করা ছাড়া এবং আমরাই সেই ব্যক্তিরা, যাঁদের আল্লাহ এখানে নির্ধারণ করে পাঠিয়েছেন। এই প্রত্যাশা ডেলিভার করার জন্য। আমরা আত্মবিশ্বাসী, এটা আমরা ডেলিভার করব। আমরা ওয়াদাবদ্ধ।’

প্রীতিদের পুরান চাল ভাতে বেড়েছে


 বর্তমানে বলিউডের আলোচনায় থাকা অভিনেত্রীর নাম প্রীতি জিনতা। এর প্রধান কারণ এই অভিনেত্রী পাঞ্জাব কিংসের অন্যতম মালিক। দুই দিন আগেই তিনি দল সাজাতে ১৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়ে প্রথম আলোচনায় আসে। গতকাল এই অভিনেত্রী নিলামের পুরো সময় আলোচনায় ছিলেন। নতুন আরেক কারণেও আলোচনায় ছিলেন প্রীতি।

প্রীতি জিনতার ক্যারিয়ারের অন্যতম ‘কাল হো না হো’ সিনেমা। এই সিনেমায় তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শাহরুখ খান ও সাইফ আলী খান। বলিউডের এই আলোচিত সিনেমা গত ১০ দিন হলো পুনরায় সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে। রোমান্টিক এই সিনেমা ১০ দিনে নতুন করে আয়ে যোগ করেছে ৩ কোটি ১৫ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেমাটি বেশি দর্শক পেয়েছে। এমনকি প্রীতি জিনতা আইপিএলের নিলাম নিয়ে আলোচনায় আসায় ৩ দিনে সিনেমাটি ৩০ ভাগ দর্শক বেশি পেয়েছে, যা ১০তম দিনের হিসাবে পুনরায় মুক্তি পাওয়া কোনো সিনেমার জন্য রেকর্ড।

সিনেমার একটি দৃশ্যে প্রীতি জিনতা, শাহরুখ ও সাইফ। ছবি: সংগৃহীত
সিনেমার একটি দৃশ্যে প্রীতি জিনতা, শাহরুখ ও সাইফ। ছবি: সংগৃহীত

২০০৩ সালের ২৮ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছিল বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘কাল হো না হো।’ ওই বছরের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা ছিল এটি। বক্স অফিসে যেমন আয় করে ছবিটি, তেমনি ভক্তদের মনেও জায়গা করে নেয় শাহরুখ–প্রীতি জিনতারা। সেই সিনেমা ২১ বছর পরে ১৫ নভেম্বর পুনরায় মুক্তি পায়। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটির আয় ৭৭ লাখ রুপি। প্রথম সপ্তাহে আয় দাঁড়ায় ২ দশমিক ০২ কোটি রুপি। পরের তিন দিনে সিনেমাটি আয় করে ১ কোটি ১৫ লাখ রুপি। ১০ দিনেই সিনেমাটির আয় ৩ দশমিক ১৫ কোটি রুপি।

প্রীতি জিনতা
প্রীতি জিনতা
ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

‘কাল হো না হো’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নিখিল আদভানি। তবে অনেকেই মনে করেন করণ জোহর। তিনিই চিত্রনাট্য লিখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে করণ জোহর জানিয়েছিলেন, সিনেমার ন্যায়না চরিত্রটি তিনি লিখেছিলেন কারিনা কাপুরকে ভেবে। কিন্তু লেখার পর প্রীতিকেই তাঁর মনে হয়েছে চরিত্রটির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই প্রস্তাবটি প্রীতি জিনতাকে দেওয়া হয়। প্রীতিও লুফে নেন চরিত্রটি। এটি এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচিত সিনেমার একটি।


Sunday, November 24, 2024

মালেক পার্টি’ গড়ে মানিকগঞ্জ ‘শাসন’

 

২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার পর জাহিদ মালেক দলের মধ্যে নিজের একটি পক্ষ তৈরিতে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর প্রভাব বাড়তে থাকে। ২০১৮ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মানিকগঞ্জে একক আধিপত্য গড়ে তোলেন।

স্বজন ও অনুসারীদের নিয়ে তাঁর গড়া পক্ষ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে ‘মালেক পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

আরও পড়ুন