Monday, September 23, 2024

চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানালেন ইলিয়াস কাঞ্চন

 

সপ্তাহখানেক আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরিবোর্ড গঠন হয়েছে। এরই মধ্যে জুরিবোর্ড সদস্যরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে গিয়ে একটি সভা করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে জানা গেল, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ জুরিবোর্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চন। এরই মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে তা জানিয়েও দিয়েছেন। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

আজ সোমবার দুপুরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সময়ের অভাবে এই জুরি কমিটিতে থাকতে পারবেন না। কমিটি ঘোষণার পরদিন একটা মিটিং হয়, আমি সেখানে গিয়ে থাকতে না পারার কথাটা জানিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে বলেছিলেন, থাকেন। কিন্তু আমি পারছি না। নিরাপদ সড়ক চাই নিয়ে আমি ৩২ বছর ধরে কাজ করছি। এই কাজটি করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। এখানে বেশি সময় দিতে হয়।’

 ইলিয়াস কাঞ্চন
ইলিয়াস কাঞ্চন
ছবি : সংগৃহীত

কথা প্রসঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে চলচ্চিত্রের সার্বিক কল্যাণে একটি কমিটি করার কথা বলা হয়। আমাকে থাকার ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়। আমি তখন বলেছি, কারা কারা থাকবেন, তার বিস্তারিত আমাকে জানতে হবে। তারপর তারা বলল, সব আনুষ্ঠানিকতা কমপ্লিট করে আপনার সঙ্গে এসে দেখা করব। তারপর এ বিষয়ে বিস্তারিত বলব। হঠাৎ দেখলাম চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট হলো, সেন্সর বোর্ড হলো, জুরিবোর্ড হলো। আমার নাম এল জুরিবোর্ডে। নাম আসার পরদিনই একটা মিটিং ডাকল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তারপরও ভাবলাম, মিটিংয়ে যাই, আমার কথাগুলো সেখানে গিয়ে নাহয় বলি। আমি ওখানে গেলাম। দেখলাম, সব কমিটির একই সঙ্গে মিটিং।’

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, ‘এ ধরনের কাজে আমাকে অনেকবার বলা হয়েছে। যাইনি। শিল্পী সমিতির সভাপতি থাকা অবস্থায়ও তো পদাধিকারবলে এসব জায়গায় থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু থাকিনি। এর আগে যাঁরা এ–জাতীয় কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও বলেছিলেন, থাকিনি। কিন্তু চলচ্চিত্রের মানুষের কল্যাণের জন্য গঠিত চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট কমিটির মধ্যে দেখলাম আমার নামটামই নাই, আমাকে যেটার কথা বলেছিল। চলচ্চিত্রের মানুষের কল্যাণে বৃহত্তর কোনো কাজে গঠিত কর্মকাণ্ডে অনেক কষ্ট সত্ত্বেও থাকতে পারলে ভালো লাগত। সবকিছু মিলিয়ে পুরস্কার কমিটিতে থাকাটাকে তাই যুক্তিযুক্ত মনে করিনি।’

ইলিয়াস কাঞ্চন
ইলিয়াস কাঞ্চন
ছবি: সংগৃহীত

সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘পুরস্কারের জুরিবোর্ডে যেকোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকতে পারেন। এখানে ইলিয়াস কাঞ্চনকে থাকতে হবে বলে আমি মনে করি না।’
১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২৩ প্রদানের উদ্দেশ্যে ‘জুরিবোর্ড’ পুনর্গঠনের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সেখানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (চলচ্চিত্র) সভাপতি করে মোট ১৩ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়। এতে সদস্যসচিব হিসেবে রাখা হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র অধিশাখার প্রধান করা হয়।

ইলিয়াস কাঞ্চন ছাড়া জুরিবোর্ডের অন্য সদস্যদের তালিকায় ছিলেন নির্মাতা জাহিদুর রহিম অঞ্জন, সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ, অভিনেত্রী অপি করিম, সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি, চিত্রগ্রাহক বরকত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সভাপতি এস এম ইমরান হোসেন ও সাংবাদিক ওয়াহিদ সুজন।

মাহবুব উদ্দিন খোকনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বিএনপির

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি নোয়াখালীতে নিজের নির্বাচনী এলাকায় মোটর শোভাযাত্রা করায় তাঁকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আজ সোমবার বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়।

৮ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে জনগণকে দুর্ভোগের মধ্যে না ফেলে মোটরসাইকেলের বহর বা অন্য কোনো যানবাহনে শোভাযাত্রা পরিহার করার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতা-কর্মীদের বিরত থাকার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল, সব সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর এবং এর সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে এ–সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, এরই মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রঙবেরঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করছেন। এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু, অনভিপ্রেত এবং দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী। দলের অতি উৎসাহী কতিপয় নেতা নিজেদের ছবি–সংবলিত পোস্টার প্রকাশ করছেন এবং ফেস্টুন ও ব্যানার ঝুলিয়ে রাখছেন। এ ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা থেকে নেতা-কর্মীদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্

রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার ১৮ মাসের মধ্যে যাতে নির্বাচন হয়, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের

 

যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন আছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার একটি রূপরেখা দেন তিনি।

ড. ইউনূস প্রসঙ্গে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমি তাঁর পাশে থাকব, যা-ই হোক না কেন, যাতে তিনি তাঁর মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।’

বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত ড. ইউনূস। তিনি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম করতে বিচার বিভাগ, পুলিশ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির কয়েক সপ্তাহ আগেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটানো উচিত। তবে তিনি ধৈর্য ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন

Sunday, September 22, 2024

শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রকাশ্যে এলেন, নানা আলোচনা

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কমিটি আছে এবং সেই কমিটির সভাপতি সাদিক কায়েম—সেটা অবশেষে প্রকাশ্যে এল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে গতকাল শনিবার মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার পর গণমাধ্যমে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বক্তব্য দেন সাদিক। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে।

কেউ কেউ সাদিকের সঙ্গে পরিচয় থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় না জানা ও বুঝতে না পারা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ জানান।

কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের মিথস্ক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম পরিবেশ পরিষদে ১৯৯০ সালে শিবির ও জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে না দেওয়ার বিষয়ে মতৈক্য হয়েছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতন হয়। তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করত। ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে শিবিরকে কোনো কার্যক্রম চালাতে দেয়নি। শিবির সন্দেহে তারা অনেককে মারধর ও হল ছাড়তে বাধ্য করেছে। অবশ্য সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে গত জুলাইয়ে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শনিবার আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নেন শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাদিক। এই পর্বে ছিলেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের নেতারা।

মতবিনিময় সভায় শিবিরের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের পরিবর্তে সংস্কার ও অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দাবি করা হয়।

সভা শেষে সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা কোনো প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্ত নয়। তাঁরা সব ছাত্রসংগঠনকে নিয়ে সংলাপের আয়োজন করতে বলেছেন, যেখানে ফ্যাসিবাদের দোসর ছাড়া সব ছাত্রসংগঠন আসবে। শিবির মেধাভিত্তিক রাজনীতি চায় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকে প্রত্যেকের রাজনৈতিক চর্চা করবে, সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হবে না, সেটাই আমাদের চাওয়া।’

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ছাত্রসংগঠনকে ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে সাদিক বলেন, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।

সাদিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তাঁর স্নাতকোত্তর শেষ। তিনি থাকতেন মাস্টারদা সূর্য সেন হলে। গত জানুয়ারিতে শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হওয়ার আগে তিনি সংগঠনের সূর্য সেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

সাদিকের সঙ্গে শনিবার মতবিনিময় সভায় শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আরেক নেতা রেজাউল ইসলাম অংশ নেন। তবে রেজাউলের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি। সাদিক ও রেজাউল ছাড়া শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্য নেতাদের কারও পরিচয় এখনো সামনে আসেনি।

কমিটির বিষয়ে সাদিক আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের কমিটি খুব দ্রুত প্রকাশ করা হবে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার তাঁদের আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিকস (গোপনে রাজনীতি) করতে বাধ্য করেছে।

সাদিক কায়েম গতকাল শনিবার এই ফেসবুক পোস্টে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা জানান
সাদিক কায়েম গতকাল শনিবার এই ফেসবুক পোস্টে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা জানান
সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

ছাত্রলীগ বিতাড়িত হওয়ার পর এখন শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ব্যানারে রাজনীতি করছে এবং হলগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে—কারও কারও এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাদিক বলেন, শিবিরের সমর্থকদের বেশির ভাগ হলের বাইরে থাকেন। কিছু নিয়মিত শিক্ষার্থী হলে থাকতে পারেন। গোপনে শিবির সব নিয়ন্ত্রণ করছে, এটা ঠিক নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের সভাটি পরিবেশ পরিষদের ব্যানারে ডাকা হয়নি। শিবিরের দুজন নেতা সভাটিতে অংশ নেওয়ার পর এ নিয়ে উপাচার্যের সামনে প্রশ্ন তোলেন কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ শনিবারের মতবিনিময় সভায় উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি কীভাবে তাঁকে (শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি) খুঁজে পেলেন?’

উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান তাঁর এই প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন মাঈন আহমেদ। মাঈন ছাড়াও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ (বাসদ) কয়েকটি বাম ছাত্রসংগঠনের নেতারা সভায় শিবিরের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

১৯৯০ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদে জাতীয় ছাত্রসমাজ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়, তখন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন। তিনি আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, স্বৈরাচারের সহযোগী হওয়ায় জাতীয় ছাত্রসমাজ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সব ছাত্রসংগঠনের মধ্যে তখন ঐকমত্য হয়েছিল। সিদ্ধান্তটি ছিল, এই দুই সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে না৷

খায়রুল কবির আরও বলেন, ‘শিবির ও ছাত্রসমাজের বিষয়ে এখনকার ছাত্রসংগঠনগুলো কী আচরণ করবে, সে ব্যাপারে আমরা এখনকার ছাত্রসমাজের ওপরই আস্থা রাখতে চাই। আমরা দলীয় বা সাংগঠনিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলছি না৷’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাড়ে তিন দশকে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচার করা হয়। কারও কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বিভিন্ন সময় বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন করেছে। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি জামায়াতের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। গত ৩০ আগস্ট দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের জোট অনেক আগেই অকার্যকর হয়ে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন প্রভাব আছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে। বাম ছাত্রসংগঠনগুলোও সক্রিয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অবস্থান হলো, তারা ক্যাম্পাসে কোনো দলের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি চায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের প্রকাশ্য রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের আপত্তি আছে। তবে নেতারা এখনই প্রকাশ্যে এ নিয়ে কথা বলতে রাজি নন।

ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা আজ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরকে প্রকাশ্যে রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে তাদের অবস্থান প্রকাশ করতে হবে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলো এবং অন্যান্য অংশীজন মিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।


আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে চাপা পড়েছে শিল্পকলার দুর্নীতি


 শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ভবন

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জন্য টাকার অঙ্কে বরাদ্দ গত ১৫ বছরে বেড়েছে ১০ গুণ। প্রতিষ্ঠানটির জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেট ১০০ কোটি টাকার বেশি। কয়েক বছর ধরেই বছরব্যাপী বিপুল ব্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মশালা ও অনুষ্ঠান। দেশজুড়ে হয়েছে নাটক ও যাত্রাপালার আয়োজন। এসবের আড়ালে বারবার চাপা পড়েছে সোয়া দুই শ কোটি টাকার হিসাবের গরমিল, নিয়োগে অনিয়ম আর সাবেক মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর বহুমুখী স্বেচ্ছাচারিতার খবর। বরাদ্দের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে বেড়েছে দুর্নীতির পরিমাণও। এখন সেসব সংকটে জর্জরিত বাংলাদেশে সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট অন্তত ১৪ জন কর্মকর্তার কক্ষে তালা দেন প্রতিষ্ঠানেরই কিছু কর্মকর্তা। কয়েকজনকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

শিল্পকলা একাডেমির এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। নতুন মহাপরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার সঙ্গে কথা বলছেন। 

চিকিৎসা বন্ধ রেখে আন্দোলনে ইউনানি-আয়ুর্বেদিক মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসক-শিক্ষার্থীরা

 

রাজধানী মিরপুরে অবস্থিত সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছাড়া সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ আছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ।

সাত দফা দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ৯ দিন ধরে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন প্রণয়ন ও কাউন্সিল গঠন করা। দ্রুত সময়ে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকদের সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধি প্রণয়ন এবং পিএসসির ক্যাডারভুক্ত করার মাধ্যমে নিয়মিত নিয়োগ প্রদান করা। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা করা। স্বৈরাচারের দোসর, দুর্নীতিবাজ ও অযোগ্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন করা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা বাড়ানো। সরকারি ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক অপরাজিতা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দফায় দফায় সভা হলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া যায়নি। তাই ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা সর্বাত্মক অবরোধে (কমপ্লিট শাটডাউন) আছেন। পরীক্ষা–ক্লাস সবকিছু বন্ধ। জরুরি বিভাগ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসাসেবাও বন্ধ। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে থাকায় চিকিৎসকেরাও কাজ করতে পারছেন না।

মেডিকেল কলেজের ইউনানি বিভাগের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আহমদ উল্লাহ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলনে আছেন।

জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মেহবুবা সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, তারা সংকট সমাধানে কাজ করছেন।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বললেন ‘অ্যাকশনে’ যেতে, বাহিনীর সদস্যরা নির্বিকার

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার (সাদা জ্যাকেট) আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য এগিয়ে যান। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বরছবি: দীপু মালাকার

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীতে ছোট পরিসরের একটি আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে দেখা গেল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। রোববার রাজধানীর কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনে গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিটরদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে এমন চিত্র দেখা যায়।

কাকরাইলের অডিট ভবনের সামনের সড়কটি রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ করে রেখেছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাবনিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন দেড় শ থেকে দুই শ অডিটর। তাঁদের দাবি, ১১তম গ্রেড থেকে তাঁদের পদকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। এই দাবিতে সড়ক অবরোধের কারণে কাকরাইলের আশপাশসহ রাজধানীর বড় অংশজুড়ে যানজট তৈরি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদলকে আলোচনার জন্য ডাকলেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নিয়ে আন্দোলনকারীদের সড়কের এক পাশে অবস্থান নিতে দফায় দফায় অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাঁরা শোনেননি। একপর্যায়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সড়ক থেকে আন্দোলনকারীদের সরাতে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন অধস্তন কর্মকর্তাদের নির্বিকার ভূমিকার কারণে বাধে বিপত্তি।

আন্দোলনকারীরা দুপুর সাড়ে ১২টার আগে সিএজি কার্যালয়ের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), সেনাবাহিনী ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা কার্যালয়ের ফটকে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেননি।

এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে সাঁজোয়া যান আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও জলকামান আনা হয়। বেলা দেড়টার পর আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে হ্যান্ডমাইকে দফায় দফায় অনুরোধ জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. সারোয়ার জাহান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সড়ক ছাড়েননি। একপর্যায়ে তাঁদের পাঁচ মিনিট সময় বেঁধে দিয়ে সড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়। তখনো আন্দোলনকারীরা সড়ক না ছাড়লে অডিট ভবনের সামনে সড়কের পশ্চিম দিকে অবস্থান নেয় পুলিশ।

এ সময় অধস্তন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ডিসি সারোয়ার জাহানকে বলতে শোনা যায়, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি নিয়ে সবাই প্রস্তুত হোন। একপর্যায়ে হ্যান্ডমাইকে তিনি সবাইকে আন্দোলনকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে থাকা রমনা জোনের এডিসি, রমনার এসি (পেট্রল), রমনা থানার ওসিসহ কয়েক পুলিশ সদস্য ছাড়া অধস্তন আর কাউকে এগোতে দেখা যায়নি।

ডিসি সারোয়ার জাহান দফায় দফায় সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের (ফোর্স) উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। বলেন, ‘সাহস নিয়ে আপনারা এগিয়ে আসুন।’ এ সময় কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সরাসরি বলতে শোনা যায়, তাঁরা কোনো ‘অ্যাকশনে’ যেতে পারবেন না। এই সুযোগে সড়কে দোয়া ও মোনাজাত শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

জলকামান থেকে গরম পানি ছুড়ে  আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
জলকামান থেকে গরম পানি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

পুলিশ কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান কয়েকজন কনস্টেবল ও এসআইকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সাউন্ড গ্রেনেড মারতে পারো না তুমি?’ তখন তাঁদের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পারি না, স্যার।’ এপিবিএনের দলটির কাছে গিয়ে ডিসি সারোয়ার বলেন, ‘তোমরা কি আমার কথা শুনবা না?’ এ সময় এক এপিবিএনের একজন সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা যেতে পারব না, স্যার।’ অনেকেই আবার নিজেদের মধ্যেও আলাপ করছিলেন, যেন কেউ সামনে না যায়। দুই এসআইকে কনস্টেবলদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘যা বলে বলুক, চুপ করে থাকো।’

এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় বিরক্তি প্রকাশ করতে শোনা যায় রমনার ডিসি সারোয়ার জাহানকে। সবশেষে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরাতে নিজের ব্যর্থতার কথা মুঠোফোনে বলতে শোনা যায় পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসিকে। তিনি তখন বলছিলেন, ‘স্যার, কেউ কথা শুনছে না। বারবার বলেছি, কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না।’

এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর কাকরাইলের সড়কের অবরোধ করা অংশে দেখা যায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশনস) সানা শামীনুর রহমানকে। তবে তিনি আসার পরও অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরানো যায়নি।

বেলা ৩টা ১৭ মিনিটে আন্দোলনকারী অডিটরদের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, তাঁরা সড়কের অবরোধ তুলে নিয়ে সেগুনবাগিচার দিকে চলে যাবেন। আগামীকাল (সোমবার) আবার তাঁদের কর্মসূচি পালন করা হবে। যদিও আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ তখন আবার বলছিলেন, এখনই না গিয়ে সড়কে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁরা চলে যাবেন।

অডিট ভবনের ফটকে অবস্থান নেন সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
অডিট ভবনের ফটকে অবস্থান নেন সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

এরই মধ্যে অডিট ভবনের সামনে উপস্থিত হন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ইসরাইল হাওলাদার। তিনি এসে সব ফোর্সকে ডেকে একত্র করেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের কয়েকজন ধাক্কা দিয়ে সড়কের বাইরে নিতে থাকেন। তখন আন্দোলনকারীরাও তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশ এগিয়ে যায়। তখন আন্দোলনকারীদের বড় অংশ রাস্তা ছেড়ে দিতে থাকেন।

এ সময় সড়ক থেকে সরে না যাওয়া বাকি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে জলকামান থেকে গরম পানি ছোড়া হয়। তখন বাকিরাও ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিট ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন অডিটরেরা। কাকরাইল, ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
গ্রেড পরিবর্তনের দাবিতে অডিট ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করেন অডিটরেরা। কাকরাইল, ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর
ছবি: দীপু মালাকার

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন ডিসি পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা। যুগ্ম কমিশনার অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের কথা কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যায়ের সদস্যরাও কেন শুনছেন না—তা নিয়ে ঊর্ধ্বতন প্রত্যেক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে প্রথম আলো। তবে তাঁদের কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শুধু বলেছেন, ‘ঢাকায় পুলিশের অধস্তন পর্যায়ের সদস্যদের বড় অংশই শেখ হাসিনা সরকারের সময়ের। তাই তারা কথা শুনতে চায় না। অনেকে আবার ঢাকায় নতুন আসায় বিষয়গুলো বুঝে উঠতে পারে না। সব মিলিয়ে আমরা খুবই বিপাকে