Wednesday, August 21, 2024

ইউএসএআইডির প্রধানের সঙ্গে আলাপ ড. ইউনূসের, সহায়তা নিয়ে আলোচনা

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএসএআইডি) প্রধান সামান্থা পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূস এই প্রথম এত উচ্চপর্যায়ের কোনো মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললেন।

বিবৃতিতে ইউএসএআইডির মুখপাত্র শেজাল পুলিভারতি বলেন, মানবাধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে মার্কিন সংস্থাটি কীভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে পারে, তার বিভিন্ন দিক নিয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন সামান্থা পাওয়ার।

দুজনের আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বিষয়টিও উঠে আসে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ইউএসএআইডির মুখপাত্র বলেন, এই রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন সামান্থা পাওয়ার। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো যেন কাজ করতে পারে, তার ওপর গুরুত্ব দেন।

এর আগে গত রোববার ড. ইউনূস বলেছিলেন, তাঁর সরকার রোহিঙ্গাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এ কাজে তিনি আরও আন্তর্জাতিক সমর্থন চান।

ড. ইউনূস বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ।


Sunday, July 14, 2024

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীরের ব্যাংক হিসাব জব্দ

 

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীরের ব্যাংক হিসাব জব্দ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সঙ্গে তাঁদের হিসাব খোলার ফরমসহ যাবতীয় তথ্য আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে।

গতকাল রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ও তাঁদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো হিসাব থাকলে সেসব হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর ২৩ (১) (গ) ধারার আওতায় ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি নিজের বাসার সাবেক এক কর্মীর অর্থসম্পদের বিষয়টি সামনে আনেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাসায় কাজ করেছে, পিয়ন ছিল সে, এখন ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না। বাস্তব কথা। কী করে বানাল এত টাকা? জানতে পেরেছি, পরেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

গতকালই জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে টানা দুই মেয়াদের পাশাপাশি গত মেয়াদেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তারপরও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করেছেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। বলা হয়, তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্পর্ক নেই।

জাহাঙ্গীর আলম নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের নাহারখিল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এর আগে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন।


সাত পৃষ্ঠার চিঠি লিখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’, স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গৃহবধূ জান্নাতুল ফেরদৌসীকে (১৯) আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে জান্নাতু‌লের স্বামী শিপন মিয়া, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ‌কে আসামি করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌসী উপজেলার বিশগিরিপাড়া গ্রামের গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে। সাত পৃষ্ঠার একটি চিঠি লিখে গত শনিবার রাতে তিনি বাবার বাড়িতে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবার বাড়ির সদস্যরা।

মেসির কান্নার পর মার্তিনেজের গোলে আর্জেন্টিনার ত্রিমুকুট

 

আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা জয়ের পর গোলদাতা লাওতারো মার্তিনেজের সঙ্গে লিওনেল মেসিএএফপি

দর্শক–বিশৃঙ্খলার কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা ২২ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়া আর্জেন্টিনা–কলম্বিয়া ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ছিল নানা নাটকীয়তা। চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান লিওনেল মেসি। কান্নায় ভেঙে পড়েন ডাগআউটে। এরপর নিকো গঞ্জালেসের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে আর্জেন্টিনা দলে হতাশা আরও বাড়ে। আনহেল দি মারিয়ার বিদায়ী ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা থাকে গোলশূন্য।

তবে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে লাওতারো মার্তিনেজের ১১২ মিনিটের গোলে কলম্বিয়াকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় কোপা আমেরিকা জিতেছে আর্জেন্টিনা। এর মাধ্যমে ত্রিমুকুট জয়ও সম্পন্ন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মহাদেশীয় শিরোপা, বিশ্বকাপ, আবার মহাদেশীয় শিরোপা—স্পেনের পর এই ত্রিমুকুট জেতা দ্বিতীয় দল এখন আর্জেন্টিনা।

Tuesday, July 9, 2024

২১ বছরে ২০ পুলিশ হত্যা, রায় মাত্র তিনটির

 

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল মাঝরাত! কর্মস্থল রাজধানীর বংশাল থানা থেকে পুরান ঢাকার ওয়ারীর বাসায় ফিরছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম রায়। পথে ধোলাইখালে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে তিনজনকে তিনি তল্লাশি করতে যান। তাঁদের একজন গৌতমের বুকের বাঁ পাশে ও কোমরের পেছনে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান গৌতম। পরিবারের দাবি, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

এই খুনের পর ১৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো শেষ হয়নি মামলার বিচার। অভিযোগ গঠনের পর ৪৭ সাক্ষীর মাত্র ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। শুধু গৌতম রায়ই নন, গত ২১ বছরে রাজধানীতে অন্তত ২০ পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে মোট ১৮টি। এর মধ্যে মাত্র ৩টি মামলার রায় হয়েছে। তদন্তাধীন আছে দুটি। তিনটি মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। বাকিগুলো বিচারাধীন। তদন্তে ধীরগতির সুযোগ নিয়ে এসব মামলার বেশির ভাগ আসামি জামিনে। কেউ কেউ আবার পালিয়েছেন বিদেশে।

নিহত গৌতমের ভাই তিলক রায় সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ সদস্য হত্যার বিচারও যদি না হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে? যিনি অসংখ্য মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাঁর হত্যার রহস্যই উদ্ঘাটিত হলো না। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটিও এত বছরেও উদ্ধার হয়নি। এ অবস্থাতেই পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে।’ তিলক রায়ের অভিযোগ, নিখুঁত নিশানায় গুলি করে খুন করা একটি ঘটনাকে পুলিশ খুব সাধারণভাবে উপস্থাপন করেছে। তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মামলাটিতে পুলিশ বাদী হয়। এ জন্য তাঁরাও বিচারে গতি ফেরাতে তেমন কিছু করতে পারছেন না।

দেশে হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ পুরোনো। বিচারে ‘কচ্ছপগতি’র জন্য পুলিশের ভূমিকা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। তবে নিজেদের সদস্য হত্যার বিচারেও ধীরগতি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা সমালোচনা রয়েছে। পুলিশের বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত তদন্তে দুর্বলতা ও গাফিলতি এবং সাক্ষী ঠিকঠাক হাজির করতে না পারায় পুলিশ হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

বিচারে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘসূত্রতার অনেকগুলো কারণ আছে। যে সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা প্রয়োজন, পুলিশ সেটি করে না বা করতে পারে না। সাক্ষী হাজির করার দায়িত্বও পুলিশের। এই কাজটি সঠিকভাবে হচ্ছে না। তারা যদি কঠোর হয়, তাহলে সাক্ষী ঠিকমতোই হাজির হবে। তা ছাড়া ভালো তদন্তকারী কর্মকর্তা তৈরি না হওয়াও বিচারে দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ। বিশেষ মামলাগুলো দায়িত্ব নিয়ে শেষ করা প্রয়োজন।

—মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ তদন্তে দুর্বলতা ও গাফিলতি এবং সাক্ষী ঠিকঠাক হাজির করতে না পারা।
—নিজেদের সদস্য হত্যার বিচারেও ধীরগতি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা সমালোচনা রয়েছে।

তদন্তে দুর্বলতা

তদন্তে দুর্বলতা ও ধীরগতির কারণে পুলিশ সদস্য হত্যার অনেক মামলার বিচারে দীর্ঘসূত্রতা বাড়ে। ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার বাড়িতে গুলি করে খুন করা হয় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. ফজলুল করিম খানকে। কয়েকটি আলোচিত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ফজলুল। চার বছর তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৭ সালে দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দেওয়া হয়।

নারাজির পর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠান আদালত। এরপর ২০১৮ সালের ২০ মে ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। মৃত্যুর প্রায় ১১ বছর পর চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এই মামলায় ৩৭ জনের সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর কনস্টেবল মো. মনিরুজ্জামান তালুকদার হত্যা ও কনস্টেবল মো. আমিরুল হক হত্যা মামলার তদন্তই এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ।

হাজির হয় না সাক্ষী

পুলিশ হত্যার মামলাগুলোর নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ মামলায় ঠিকঠাক সাক্ষী হাজির করা হয়নি। বেশির ভাগ মামলায় পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে কেবল পুলিশ সদস্যরাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এর বাইরে সাধারণ সাক্ষীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়।

২০১৮ সালের ২০ মার্চ ঢাকার পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিলেন ডিবি পরিদর্শক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। হারানো পিস্তলের খোঁজে অভিযান চলাকালে অপরাধীদের গুলিতে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় মিরপুর থানার বিচারাধীন মামলায় ৩৫ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২০ জনের সাক্ষ্যই গ্রহণ করা হয়নি।

সাক্ষী হাজিরের দায়িত্ব পুলিশের, কাজটি সঠিকভাবে হচ্ছে না। তারা যদি কঠোর হয় তাহলে সাক্ষী ঠিকমতোই হাজির হবে।
নূর মোহাম্মদ, সাবেক আইজিপি

হরতাল-অবরোধের মধ্যে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশ ভ্যানে পেট্রলবোমা ছুড়লে মারা যান পুলিশ সদস্য শামীম মিয়া। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারির এ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই আটজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মামলার ৫৯ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত একজনও আদালতে সাক্ষ্য দেননি।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ সাক্ষী হলে সাক্ষ্য গ্রহণ সহজ হয়। অন্য সাক্ষীরা অনেক সময় আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে চান না। এটিই মূল সমস্যা। তা ছাড়া এই মামলাগুলো যতখানি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত, সেভাবে হয়তো দেখা হয়নি। আমরা সমস্যাগুলো নিরসনে কাজ করব।’

কেউ জামিনে, কেউ বিদেশে

বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার আসামিরা জামিনে রয়েছেন। দেশের বাইরে পালিয়েছেন শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ অনেকে। পলাতক আসামিদের ফেরাতে পুলিশের উদ্যোগও নামমাত্র।

প্রায় ২১ বছর আগে মালিবাগের সানরাইজ হোটেলে খুন হন পুলিশের পরিদর্শক নূরুল আলম শিকদার এবং উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। ২০০৩ সালের ১৫ মে রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ ওরফে মন্টি ও তাঁর সহযোগীরা এই দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ সালে ৭ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। চার্জ গঠনের পর এখন পর্যন্ত ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৭ জনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে জিসান দুবাইয়ে পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদস্য হত্যার বিচারও যদি না হয়, এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে? যিনি অসংখ্য মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন, তাঁর হত্যার রহস্যই উদ্ঘাটিত হলো না।
তিলক রায়, এসআই গৌতমের ভাই

গাজীপুরের একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খানের লাশ উদ্ধার করা হয় ২০১৮ সালের ৯ জুলাই। তার আগের দিন বন্ধু রহমত উল্লাহর সঙ্গে বনানীর একটি বাসায় গিয়ে খুন হন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এ কর্মকর্তা। হত্যার পর মামুনের লাশটি বস্তায় ভরে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দেয়। এই মামলার ৩৮ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন এখন পর্যন্ত আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ইমরান খুনের আলোচিত আসামি আরাভ খান ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে আছেন।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হন এসআই শাহজাহান। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাত্র একজন আসামি কারাগারে আছেন। বাকি ২৪ জনই এখন জামিনে। এই মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নির্দেশে এখন স্থগিত আছে।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন পুলিশ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম। এ ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় সাত আসামিই এখন জামিনে আছেন।

জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমায় বিলম্ব পুরো বিচারে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে। চার-পাঁচ বছর পর যদি একটি হত্যা মামলার প্রতিবেদন দেওয়া হয়, তত দিনে অনেক সাক্ষীর ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন তো অনেক দূর থেকে তারা সাক্ষী দিতে আসতে চাইবে না। অপরদিকে পুলিশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে বেশি ব্যবহৃত হয়। অথচ অপরাধের তদন্ত ও অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা তাদের মুখ্য কাজ। তারা এই কাজ থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।


নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করলে ঘুম ভালো হয়, বলছে গবেষণা

 

প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের অভ্যাস মানুষের মনে অনেকটাই প্রশান্তি এনে দিতে পারে। মানুষ তখন ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী হয়ে উঠতে পারে। তাই অল্প পরিমাণে হলেও সবারই নিয়মিত অর্থ সঞ্চয় করা উচিত। যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির নতুন এক গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে।

গবেষকেরা বলছেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে যাঁরা নিয়মিত সঞ্চয় করেন, তাঁদের জীবনে সন্তুষ্টির মাত্রা সঞ্চয় না করা ধনী মানুষদের মতোই।

খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থ সঞ্চয়ের কাজটি কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের এক–চতুর্থাংশেরই ১০০ পাউন্ডের কম সঞ্চয় আছে।

প্রতি ১০ জনে ৬ জন মানুষের সঞ্চয়ের অভ্যাস আছে। দাতব্য সংস্থাগুলোর দাবি, আয় কম হলেও নিয়মিত সঞ্চয় করা হলে তা আর্থিক স্থিতি আনে।

ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির পারসোনাল ফিন্যান্স রিসার্চ সেন্টার প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম করে হলেও নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস জীবন নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি বাড়ায়।

এর কারণও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সঞ্চয় করলে মানুষের অর্থসংক্রান্ত দুশ্চিন্তা কমে। তাঁদের দেনাসংক্রান্ত সমস্যায় পড়তে হয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিগুলোকে তাঁরা তখন অপেক্ষাকৃত ভালোভাবে সামাল দিতে পারেন।

তবে যাঁরা ইতিমধ্যে সঞ্চয় করে ফেলেছেন এবং বিভিন্ন বয়সের পরিবর্তিত পরিস্থিতিসহ অন্য বিষয়গুলো বিবেচনা করতে গেলে এ চিত্র তুলনামূলক জটিল হয়ে পড়ে।

নতুন গবেষণাটি করতে গিয়ে ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা পুরোনো কিছু গবেষণার তথ্যকেও বিবেচনায় নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েক হাজার মানুষের ১০ বছরের সঞ্চয়ের তথ্যও আছে।

গবেষকেরা বলছেন, সঞ্চয় করলে যেমন জীবনের সন্তুষ্টি আসে, তেমনি না করলে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।

গবেষকেরা বলেছেন, সঞ্চয় ছাড়াও জীবনঘনিষ্ঠ আরও কিছু বিষয় মানুষের মনের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন ঘরবাড়ি বদল কিংবা বিয়ে করার মতো বিষয়গুলো মানসিক অবস্থার বড় ধরনের উন্নতি ঘটাতে পারে। চাকরি হারানোর মতো ঘটনা মানুষের মনের ওপর বড় ধরনের বাজে প্রভাব ফেলতে পারে।